শিরোনাম
◈ ঢাকার বাজারের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে বিপজ্জনক ভারী ধাতু, পনিরে সিসা নিরাপদ মাত্রার ৩৯ গুণ ◈ ইং‌লিশ লি‌গে এভারটনকে হারা‌লো আর্সেনাল  ◈ দেশে স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ◈ সাত বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশার ৪শ'র বেশি চালককে হত্যা ◈ আফগা‌নিস্তান‌কে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ বিজয়ী কর‌তে চান কোচ পাইবাস ◈ দারুণ উন্ন‌তি আফগানিস্তানের, ইংল্যান্ডকেও পেছনে ফেললো ◈ বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্র হচ্ছে এশিয়া, সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ ◈ নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত ◈ গরিবের মাছ পাঙাশ-তেলাপিয়াও এখন নাগালের বাইরে ◈ ৬০ হাজার কোটি টাকায় হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা নতুন রেলপথ

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:৩৩ সকাল
আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:৩৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অমি রহমান পিয়াল: হুজুররা কিন্তু গান শুনে, ইন্ডিয়ান সিনেমার গান!

অমি রহমান পিয়াল: হুজুররা কিন্তু গান শুনে। ইন্ডিয়ান সিনেমার গান। প্রতিটা ওয়াজে তারা যতোই ভারতরে শত্রু বলে ঘোষণা দিক, গান গাওয়ার বেলায় ভারতের সিনেমার গানের সুরের নকল তাদের প্রথম পছন্দ। আজহারির মতো পাবলিক ‘তু চিজ বাড়ি হ্যায় মাস্ত মাস্তের’ সুর নিয়া ইসলামী গান গায়। এই গানটা গাইতে, সুরটা মাথায় নিতে তার কতোবার গানটা শুনতে হইছে ভাবেন একবার। গানটা কতোবার তারে দেখতে হইছে সেই শোনার জন্য এবং প্রতিবার রাভিনা টেন্ডনের ভেজা শরীর তারে আন্দোলিত করছে নিশ্চিত। কতোবার।

যাহোক এসবই এখন শরিয়তসম্মত ব্যাপার। সিনেমার গানের সুরে ওয়াজে গান গাওয়া জায়েজ। সাঈদীর পুরনো সব ওয়াজ পাওয়া যায় না। শুরুর দিকে সেও গাইতো। পলাশ-রিজিয়া জুটি হিন্দি গানের অনুবাদ বাজারজাত করার অনেক আগে থিকা শিবিরের পাঞ্জেরি শিল্পী গোষ্ঠী এই কাম করতো। তারেক মনোয়ার ছিলেন তাগো স্টার। তো হিন্দি সংস্কৃতিরে বাংলা কইরা ইসলামী সংস্কৃতি বানানোর তোড়ে আমাগো বাংলাদেশের সংস্কৃতির পোংমাংসাং হয়ে গেছে অনেক আগেই। গাজীপুর ছাড়া আর কোনো জায়গায় এখন আর বাউল গান হয় না মনে হয়। ছোটভাই সুলতান মির্জা লাইভ কইরা আমারে কয়েকবার দেখাইছে তাগো এলাকার অনুষ্ঠান। ৮৭ হাজার গ্রাম থিকা এই চল উইঠা গেছে। আগে শীতে হইতো যাত্রাপালা, হইতো গানের আসর। এখন চলে ইসলামী ওয়াজের আসর। সেই আসরে মানুষ হিংসা শিখতে যায়।

মন ভালো করার বদলে বিধর্মীদের কতল করা ফরজ ফতোয়া মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরে। বছর দশেক আগেও বাসায় মিলাদ পড়ায়া জিলাপি নিয়া যাওয়া হুজুর এখন তারে ডাইকা বাজেট দেয়, বায়তুল মালের কোটাপূরণের। অন্য সংস্কৃতি বেদাত। হারমনিয়াম তবলা ভাঙা হয়। বাউলের ঘর পোড়ে, বাদ্য পোড়ে। পোড়াভিটায় বইসা তারে শুনতে হয় ভালা হইয়া যা। তো বিশেষ দিবসেও এখন পাবলিক বাজানোর মতো বাংলা গান পায় না।

দুইটা দেশাত্মবোধকের পর তাগোও হিন্দি সিনেমার গান বাজানো লাগে। কালচারাল ক্লাসিস্ট বইলা একটা গ্রুপ ফলো করি। ওইখানেও দেখি হিন্দি গানের কাভার আর হিন্দি সিনেমার নাচই বেশি করতেছে পোলাপাইন। কী করবো? সামনে কিছু নেই তো। সংস্কৃতিই নাই হয়ে গেছে। তারা তুর্কি আর পাকিস্তানি গায়ক-গায়িকা যতো চিনে তার দশভাগও বাংলাদেশের চিনে না। ইরানি টিভির বাংলা ভার্সন আর আলিফ লায়লা মাইয়াগো মাথায় হিজাব পরায়া দিছিলো। তুর্কি সিরিয়াল যোগ করছে চাপ দাড়ি। যতো না ইসলামী তারও বেশি কপিপেস্ট ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। যা বুঝতেছি বাংলা ব্যান্ড ছাড়া এই মুহূর্তে আর কেউ সংস্কৃতি বাঁচাইতে পারবো না। মজা না, সিরিয়াসলি। তাগো লম্বা চুল কোনো মোল্লা আইসা জোর কইরা কাইটা দিতে পারবো না।

কনসার্ট বন্ধ করতে গেলে পোলাপাইন হেডার হাড্ডি ভাইঙা মাদ্রাসায় পাঠায়া দিবো। হুজুর কইলেও আর উবু হইতে পারবো না। মহামারীর প্রকোপ কমলে আমার মনে হয় বামবার উচিত হইবো দেশব্যাপী কনসার্ট করা। সব এলাকায়। তার আগে স্থানীয় শিল্পীদেরও স্টেজে গাইতে দেওয়া। এছাড়া তাগো সুরক্ষা কই? প্রশাসন তো দেয় না। আর সরকার আগ্রহী হইলে মাথা পিছু তিনটা মসজিদ বানানোর পাশাপাশি প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একটা করে শিল্পকলা একাডেমি করতো। যাতে গান নাচ চারুকলার মতো বেদাতি জিনিসগুলাও বাঁইচা থাকে শরিয়তসম্মত ভন্ডামি আর বাটপারির পাশাপাশি। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ