প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিডে দেশে ১৬৮০০০ লোক গরিব হয়ে পড়েছে: সিপিডি

বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] কোভিডে দেশে ১ কোটি ৬৮ লাখ মানুষ গরীব হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ দারিদ্র ছিল বর্তমানে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে। করোনায় শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনায় দেশের দারিদ্রতা, শ্রমবাজার ও সামাজিক বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।তিনি দেখান,সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষের বেতন কমেছে ৩৭ শতাংশ। ঢাকায় বেতন হ্রাস পেয়েছে ৪২ ও চট্টগ্রামে ৩৩ শতাংশ। করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্সুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৬৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। দেশের ২০ শতাংশ পরিবারের আয় কমে গছে।

[৩] করোনায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ, ট্রান্সপোর্ট, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। মাঝামাঝি ঝুঁকিতে রয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আভ্যন্তরীণ সেবা ও শিক্ষা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। কম ঝুঁকিতে রয়েছে, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য যোগাযোগ খাত।

[৪] সিপিডির তথ্যে বলা হয়, ৬৯ শতাংশ চাকুরিজীবী চাকুরি হরানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। যারা দেশের অর্থনীতিতে ৪৯ ভাগ অবদান রাখে। তবে কিছু ব্যবসা ভাল করছে বলেও তথ্যে বলা হয়, এই ব্যবসাগুলো হলো, ইমাসৃ সেক্টর, স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মাসিউটিক্যাল।

[৫] করোনায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে দিন মজুর, পরিবহন কর্মচারি, রাস্তার দোকানদার, হকার, চা বিক্রেতা ও ইনফরমাল সেক্টরে কর্মরতরা। তাদের ৬৩ শতাংশ ঘর ভাড়া দিতে পারেনি, ৩৯ শতাংশ, ইউটিলিটি বিল, ৩৬ শতাংশ স্কুল ফি দিতে পারেনি। ৫৭ শতাংশ গরীব মানুষ গ্রামে টাকা পাঠাতে পারেনি। করোনায়, ৪৭ শতাংশ শহুরে মানুষ তাদের খাবার গ্রহণ কমিয়েছে দেশের ৩২ শতাংশ মানুষ সার্বিকভাবে তাদের খাবার গ্রহণ কমিয়েছে।

[৬] ৬৭ শতাংশ শহুরে মানুষ তাদের সঞ্চয় ভেংগে খাচ্ছে। গ্রামের ৩২ শতাংশ মানুষ তাদের সঞ্চয় ভেংগে খাচ্ছে। সরকারি ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাজ প্যাকেজের মধ্যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র, মাঝারি, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠিার জন্য। এরমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা।

[৭] এ বিষয়ে ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অতিমারির সংকটে মালিক. শ্রমিক ও ট্রেডইউনিয়নের মধ্যে সঠিক সমঝোতা গড়ে উটেনি। কিভাবে ঝঁকি মোকাবিলা করা যায় সেবিষয়েও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ শ্রমিক শ্রেণী আরো ঝুঁকিতে পড়েছে। তাদের স্বাস্থ্য ঝঁকি বেড়েছে। তার সম্পূর্ণই অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছে। তিনি বলেন, দেশের শ্রমিকের বাইরে প্রবাসী শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পরেছেন। প্রবাসীদের মধ্যে দশমিক ৪ শতাংশ বর্তমানে কর্মহীন রয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত