প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] টাঙ্গাইলে যমুনার চরাঞ্চলে ভূট্রার বাম্পার ফলন

আরমান কবীর:[২] এ বছর টাঙ্গাইলে যমুনার চরাঞ্চলে ভূট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে। যমুনার নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দু’চোখ যে দিকে যায় সে দিকে ভূট্রার খেত। দেখলে চোখ জুড়িয়ে আসে। নদীর বুকে জেগে ওঠা প্রতিটি চরে ভূট্রা চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে যমুনায় চরাঞ্চলে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

[৩] কালিহাতী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, কালিহাতী যমুনা নদীর চরাঞ্চলে গত বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২০২০ ও ২০২১ অর্থ বছরে ১২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী, পটল, পাইকড়া, নারান্দিয়া, সহদেবপুর ও বাংড়া ইউনিয়নসহ ৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভার কিছু এলাকায় ভুট্টা চাষাবাদ করা হয়েছে।

[৪] কৃষি অফিস আরো জানায়,এবার ফলনও ভালো হয়েছে। ১ বিঘা জমিতে চরাঞ্চলে ধান চাষ করলে ১২ থেকে ১৫ মন ধান হয় । অপর দিকে ১ বিঘা জমিতে ভূট্টা হয় ৩৫ থেকে ৪০ মন। দামেও তেমন পার্থক্য নেই। এক মন ধানের দাম ৮শত থেকে ৯শত টাকা। ভুট্টার দামও ধানের মতই। ভুট্টা চাষে কীটনাশক ও সারের ব্যবহারও কম হয়। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়েও ভুট্টার ফলন বেশি। তাছাড়া সহজে চাষাবাদযোগ্য এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়েছে।

[৫] এমনকি ভুট্টার আখ গো-খাদ্য আর ডাটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা আরো বেশি আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করে থাকে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনা নদীর অংশে উপজেলার চরাঞ্চলে জেগে ওঠা চরের প্রায় প্রতিটি জমিতে ভূট্রা লাগানো হয়েছে। বাতাসে দোল খাচ্ছে ভূট্রার পাতাগুলো।

[৬] মৌ-মাছিরা ভূট্রার ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ করছে। মনের আনন্দে কৃষকরা ভূট্রা গাছের গোড়ায় নিয়মিত কীটনাশক প্রযোগ, পানি সেচ, আগাছা পরিস্কার করছে।পাইকড়া ইউনিয়নের কালোহা গ্রামের ভূট্রা চাষী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গতবার জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ভূট্রা চাষে এলাকার অনেকেই লাভবান হয়েছে। তাই তাদের দেখে ও পরামর্শে প্রথমবারের মত ভূট্রা চাষে আগ্রহী হয়ে আমার ১৬০ শতাংশ জমিতে ৭৭২০ জাতের ভূট্রা চাষ করেছি।

[৭] তার কাছে খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভূট্রা চাষে খুবই খরচ কম হয়েছে। জমি চাষ, সার, কীটনাশক, পানি সেচ, শ্রমিক খরচ ও ভূট্রার বীজ কেনা বাবদ এবং ভূট্রা ঘরে তোলা পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হবে। যা ধান চাষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক । ১৬০ শতাংশ জমিতে ১৬০ মন ভূট্রা হবে বলে তিনি আশাবাদী ।উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ক’দিম হামজানী গ্রামের ভূট্রা চাষী মো. মনিরুজ্জামান জানান, গত বছর ১ শতাংশ জমিতে ভূট্রা চাষ করেছিলেন।

[৮] ভূট্রা চাষে ধান চাষের চেয়েও লাভ বেশি এজন্য এ বছর ২৫০ শতাংশ জমিতে ভূট্রা লাগিয়েছেন।তিনি আশা করেন, প্রতি শতাংশে এক মন করে ভূট্রা উৎপাদন হবে। উপজেলার চরাঞ্চলের শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা বালুচরে বর্ষাকালে পলিমাটি পরে। যা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করার জন্য উপযোগি। বিশেষ করে কম খরচে ও কম কীটনাশক ব্যবহার করে অধিক ভূট্রার ফলন হয়।উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় জমিতে ভূট্রা চাষ করেছি।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত