প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভেসে আসছে শিল্প-কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্য: দূষণের কবলে শীতলক্ষ্যা ডাঙায় উঠে আসছে মাছ

নিউজ ডেস্ক: শীতলক্ষ্যা নদীর গাজীপুর অংশে উৎসাহ নিয়ে মাছ ধরছে বেশকিছু মানুষ। গত রোববার থেকেই এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কারণ নদীর গভীর পানিতে যেসব মাছের বিচরণ করার কথা, সেগুলো এখন ভেসে উঠছে পানির ওপরে। কোনো কোনোটি রীতিমতো লাফিয়ে ডাঙায় উঠে পড়ছে।

শ্রীপুরের বরমী এলাকা ঘুরে দেখা গেল, ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ আর জলজ প্রাণী ভেসে ওঠার ঘটনায় নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিপুল উৎসাহ নিয়ে মাছ ধরতে নেমে গেছে স্থানীয়রা। তবে এ উৎসবের আবহ সাময়িক। কারণ বিষয়টি যে স্বাভাবিক নয়, তা বুঝতে পারছে নদীতীরের সাধারণ মানুষ।

বংশানুক্রমিকভাবে এ নদীর মাছের ওপর ভরসা করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, কয়েক বছর ধরে নদীতে শিল্পবর্জ্য মিশছে। ফলে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। প্রায়ই এভাবে মাছ পানির ওপরে উঠে আসার ঘটনা ঘটে। এভাবে চলতে থাকলে শীতলক্ষ্যা একসময় মাছশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। নদী মাছশূন্য হলে জীবিকা বদলানো ছাড়া গতি নেই তাদের।

বরমী ও কাপাসিয়ার সিংহশ্রী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীর মাছ পানির ওপর ভেসে উঠছে। এসব মাছ ধরতে আসা কয়েকজন জানালেন, মাছগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল, এগুলো যেন আর নদীতে থাকতে পারছে না। তাই লাফিয়ে ডাঙায় উঠে আসছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চিংড়ি থেকে শুরু করে টেংরা, বাইম, রিঠাসহ নানা ধরনের মাছ।

নরসিংদী, গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যার দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও বানার নদী থেকে উত্পত্তি গাজীপুরের শীতলক্ষ্যার। জেলার শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যাকে ঘিরে এ এলাকার কৃষি, ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘোরে। আশপাশ এলাকায় দেশীয় মাছের অন্যতম জোগানদারও এ নদী। এখান থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে বহু মানুষ।

কিন্তু কয়েক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার শিল্প-কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্য ক্ষিরু ও মাটিকাটা নদীর মাধ্যমে মিশছে শীতলক্ষ্যায়। ফলে স্বচ্ছ জলের নদী হিসেবে পরিচিত শীতলক্ষ্যা এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানির নদীতে পরিণত হয়েছে। দূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে মাছের উৎপাদন। সেই সঙ্গে কমেছে মাছ ধরে জীবিকা আহরণ করা মানুষের সংখ্যাও।

শিল্প-কারখানার দূষণে বর্তমানে শীতলক্ষ্যা নদীটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাছের দুর্দশা দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে শীতলক্ষ্যার নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনুরোধ করব তারা যেন নদীর পানিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। এতে নদীর পানিও ভালো থাকবে, মাছসহ অন্যান্য প্রাণীও অবাধে বসবাস করতে পারবে।

পানির ওপর এভাবে মাছ ভেসে ওঠার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী রেজাউল করিম বলেন, নদীতে যখন দূষণের মাত্রা বেড়ে যায় তখন মাছ ভেসে ওঠে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে মাছ বেঁচে থাকে। কিন্তু পানিতে যখন বর্জ্য ফেলা হয় তখন ওই বর্জ্য পচতে অক্সিজেন ব্যয় হয়। এতে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে মাছ তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। সে কারণে অক্সিজেন নেয়ার জন্য মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী পানির ওপরে ভেসে ওঠে। – বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত