প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা ইউনিটে ডিউটি করা অনেকেই মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে!

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ছয় হাজার ৪৬৯ জন শনাক্ত হবার পরদিন শুক্রবার (২ এপ্রিল) দেশে হতে যাচ্ছে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা। আর তাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শক, পরীক্ষক ও কন্ট্রোল রুমের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা অসংখ্য চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ অন্যরা।

এবারের সংক্রমণকে চিকিৎসকরা তুলনা করেছেন ‘সুনামি’র সঙ্গে। তার মধ্যেই শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা। এদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবারের মেডিক্যাল প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, এবারে এক লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

গত ১৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১২ দফা সুপারিশ করে। তাতে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা বন্ধ করার সুপারিশ করে তারা। একইসঙ্গে সুপারিশে ছিল যারা রোগীদের সংস্পর্শে আসবে তাদের কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখা। অথচ চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনে রাখা বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে ডিউটি করতে পাঠানো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আত্মঘাতী এবং স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি আগামীকালের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বলছেন, আমরা সরাসরি করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকছি, সেখানে কী করে আমাদেরকে ভর্তি পরীক্ষার ডিউটি দেওয়া হলো? আমাদের তো করোনা টেস্টও করানো হয়নি, তাহলে আমরা যদি পজিটিভ হয়ে থাকি সেক্ষেত্রে পুরো কেন্দ্র ঝুঁকিতে পড়বে। এ বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ কেন চিন্তা করছে না-সে ভেবেই অবাক হচ্ছি। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত, মানতেই হবে। কিন্তু আন-অফিসিয়ালি আমাদের বলা হয়েছে, এ নিয়ে যেন মিডিয়াতে কোনও কথা না বলি, কোনও নেতিবাচক মন্তব্য না দেই।

ওই দম্পতি বলেন, এমনও হতে পারে আমরা আক্রান্ত, কিন্তু উপসর্গ নেই। আবার একজন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় যেখানে সবকিছু সীমিত আকারের কথা বলেছেন, সেখানে এক লাখ ২২ হাজার ছেলে-মেয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি রয়েছে জানিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের কোনও টেস্ট হয়নি। অর্থাৎ আমরা নেগেটিভ নাকি পজিটিভ-এটা দেখা হয়নি।

আজ করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দিয়েছেন, কাল তারাও পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি করবেন এমন অনেক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সীমাহীন অবহেলা এবং উদাসীনতার ফলাফল হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে। ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, যেখানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে এসব পরীক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে যাচ্ছে সে নিয়ে কেউ ভাবছে না।

তিনি তার এক সহকর্মীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, আজ ( ১ এপ্রিল) পর্যন্ত করোনা ইউনিটে তিনি ডিউটি করে কাল তিনি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় একটি হলের সুপারিন্টেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যার যাওয়ার কথা কোয়ারেন্টিনে, তিনি যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষের সংস্পর্শে। এর চেয়ে প্যাথেটিক আর কী হতে পারে?

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা.ইকবাল আর্সলান বলেন, পুরো বিষয়টি খুবই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিল। আগামী কয়েকদিন পর আমরা এর ভয়াবহতা দেখতে পাবো। এটা একদমই ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবিবকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি ক্ষুদে বার্তায় জানান, কথা বলতে পারবেন না।

সর্বাধিক পঠিত