প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক: [২] করোনা মহামারিকালে অটিজম বৈশিষ্ট‌্যসম্পন্ন ব্যক্তির কর্মক্ষেত্র ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রসারণ’। করোনা পরিস্থিতি বিবেচেনায় এবছর দিবসটি অনাড়ম্বরভাবে পালন করা হবে।

[৩] অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। অটিজম বৈশিষ্ট‌্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নীল বাতি জ্বালানো হবে। এছাড়া, অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে রোড ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। বিশেষ স্মরণিকা ও লিফলেট ছাপানো হয়েছে।

[৪] উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অটিজম বৈশিষ্ট‌্যসম্পন্ন ২ হাজার ৫০০ ব্যক্তিকে চিকিৎসা অনুদান বাবদ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

[৫] দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

[৬] রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, ‘অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। উপযুক্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, দিক নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যথাযথ সমর্থন ও সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। আমি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিবর্গের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

[৭] রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২১ উপলক্ষে আমি দেশের সব অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি, তাদের পরিবার এবং অটিজম নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রসারণ” সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

[৮] রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব জনগোষ্ঠীকে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসন করতে হবে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিধিমালাসহ বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮ ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ স্কুল, একীভূত স্কুল এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে এনডিডি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এ বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকার বিশেষভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এসকল উদ্যোগ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি তাঁদের মানসিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ জীবন গঠনের পথকে আরও প্রসারিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২১ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।’

[৯] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া পৃথক বাণীতে বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আরও মমতাময়ী, যত্নবান ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও মমতা দিয়ে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত হবে।’

[১০] প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৪তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীদের শুভেচ্ছা জানাই।’

[১১] তিনি আরও বলেন, ‘এবারের প্রতিপাদ্য “মহামারিত্তোর বিশ্বে ঝুঁকি প্রশমন, কর্মক্ষেত্রে সুযোগ হবে প্রসারণ” অত্যন্ত সময়োপযোগী হযেছে বলে আমি মনে করি।’

[১২] শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট বিধিমালা ২০১৫, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা ২০১৫, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ এবং প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯ প্রণয়ন করেছে। এসব আইনের সফল বাস্তবায়নে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিসহ দেশের অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।’

[১৩] তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে তাদের অন্তর্ভূক্তি তথা ক্ষমতায়নকে বিশেষ প্রাধান্য দিতে তাদের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং মূলধারার বিদ্যালয়সমূহে যেন অন্তর্ভূক্তিমূলক পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি। পাশাপাশি, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষকে শতভাগ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তিসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতা, স্পিচ বা ল্যাঙ্গুয়েজ দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ সকল কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

[১৪] প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অনলাইন প্রশিক্ষণ ও ক্লাস এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় আমাদের সরকার গৃহীত নানামুখী উদ্যোগের ফলে তাদের জীবন আরো উন্নত ও আনন্দময় হবে। আমি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২১ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

গ্রন্থনা: আখিরুজ্জামান সোহান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত