শিরোনাম
◈ রফতানিতে ধাক্কা, কারখানায় আগুন: কতটা ক্ষতিগ্রস্ত পোশাকশিল্প? ◈ পর্যাপ্ত মজুতের পরও সার নিয়ে বিপাকে কৃষকরা ◈ সাজেকে ১৪ দিনের অবরোধে চরম খাদ্যসংকট, পর্যটন ও পরিবহন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: সমাধান করবে কে? ◈ শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ জিগাতলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ◈ গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে ◈ কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত ◈ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্রে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ◈ ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পায়ে হেঁটে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত যাবেন ◈ জানুয়া‌রি‌তে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ?

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২১, ০৩:২৯ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২১, ০৩:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আহসান হাবিব: আজকের রাজনীতি

আহসান হাবিব: বাংলাদেশের রাজনীতি এখন দেউলিয়াত্বের শেষ সীমানায়। ডান, বাম, উগ্র, নরম, মধ্যম সকলেই ধর্মের ঘাড়ে পা রেখে ক্ষমতার মসনদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যারা পাঁড় সাম্প্রদায়িক তারা বিরলে বগল বাজাচ্ছে। যারা রাষ্ট্রে ন্যূনতম গণতন্ত্র কায়েম করতে চায়, যারা চায় একটি ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকৃত সমাজব্যবস্থা, একটি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, তারা কি করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর পো ধরে? যেকোনো ধর্ম যে একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি, এটা বোঝার জন্য তো রাষ্ট্রনীতি জানতে হয় না। ধর্মের ইতিহাস দেখলে কিংবা তাদের আজকের যেকোনো তাণ্ডব দেখলেই বোঝা যায়। তারা ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে, এটা জানার পর গণতন্ত্র চাহনেওয়ালারা কি করে তাদের তল্পিবাহক হয়? গণতন্ত্র কি ধর্মের সঙ্গে যায়? একদলকে দেখছি ভাসানীর চেতনায় রাজনীতিতে আসার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের আবার বাম বলে লোকে চিনেও। তো ভাসানীর চেতনা কি বস্তু? সে তো পরিত্যক্ত হয়েছে স্বাধীনতার আগেই। যদি তা না হতো তাহলে তার নেতৃত্বেই মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করতো? করেনি, কারণ তার আদর্শ গোঁজামিলে ভরা। মাও তার প্রেসিডেন্ট, আইউব খান তার ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব আইউব’। তার আদর্শের মিলিত যোগফল ‘কাঠালের আমসত্ত্ব’। সেই চেতনা লইয়া এখন বাংলাদেশের মানুষ কি করিবে। হ্যাঁ, একটা জিনিস কাজে লাগবে ভারত বিদ্বেষ। এটা দিয়েই কেবল বুঝতে পারি ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের আঁতাতের কারণখানি।

রসূনের কোয়ার... যে একই জায়গায়, এটার সত্যতা এখানে পাওয়া যায় বটে। স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই হওয়া উচিত ছিলো পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে ধনিক শ্রেণি ছাড়াও তাদের কেনা গোলাম এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধেও লড়াই জারি রাখতে হতো। এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বাম গণতান্ত্রিক শক্তির, হয়েছে উল্টা, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শিকেয় তুলে তারা এখন সাম্প্রদায়িক শক্তির লেজুড়ে পরিণত হয়ে মধ্যযুগ ফিরিয়ে আনতে শক্তিক্ষয় করে চলেছে। তারা ভাবছে ক্ষমতা হাতে পেলেই তাদের কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র কায়েম করে ফেলবে।

বোকার হদ্দ আর কাকে বলে। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারছি উৎপাদন ব্যবস্থায় যে শ্রেণি তৈরি হয়েছে একদিকে বুর্জোয়া, অন্যদিকে শ্রমিক শ্রেণি- এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী হচ্ছে অনুৎপাদনশীল লুমপেন, প্রায় চেয়ে ভিক্ষা করে এরা জীবিকা চালায়। এখনো এই অংশটিকে উৎপাদন সম্পর্কে আনা যায়নি, যায়নি বলেই তারা ঘোট পাকাতে এখনো পারছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে এই তথাকথিত বাম, ভাসানীর, গণতন্ত্র কায়েম করার খায়েশ ওয়ালাদের কি মিল? খুব বড় জায়গায় মিল, তারা আসলে বাম নয়, পাতি বাম বা উগ্র বাম, এদের অর্থনৈতিক আদর্শ ক্ষুদের দিকে। ফলে একদিকে লুম্পেন এবং এই ক্ষুদেদের খুব মিল। ফলে তারা একে অপরের রাজনৈতিক বন্ধু। কিন্তু এই দিয়ে কি গণতন্ত্র কায়েম হবে? বড়জোর মোল্লাতন্ত্র কায়েম হতে পারে, তখন অবশ্য তারা তাদের আরো খাটি তল্পীবাহকে পরিণত হবে। লেখক : উপন্যাসিক

  • সর্বশেষ