শিরোনাম
◈ নির্বাচন সামনে রেখে গুপ্তহত্যার আশঙ্কা, শতাধিক পেশাদার কিলার নজরদারিতে ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটের হার বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ অন্তর্বর্তী সরকারের ◈ তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শহীদ আবু সাঈদের বাবা (ভিডিও) ◈ গণভোট: ‘হ্যাঁ–না’র বাইরে যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ ◈ শবে বরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় ◈ শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে হওয়ায় জমে ওঠে তীব্র ক্ষোভ শালীর স্বামীকে ডেকে খুন ◈ তারেক রহমানকে ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করলেন মির্জা ফখরুল  ◈ ১৩ তারিখ নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে ১৮ কোটি মানুষ : জামায়াত আমির ◈ ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেবেন : তারেক রহমান ◈ ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ: ৪৭% মানুষের মতে তারেক রহমানই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২১, ০৫:০৩ সকাল
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২১, ০৫:০৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শারফিন শাহ: গোটা ভারত কিংবা বাংলাদেশে ধর্ম যেন রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা!

শারফিন শাহ: এই উপমহাদেশ ছিলো বিশ্ব সভ্যতার আদিভূমি। জৈন, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলমান সবার তীর্থকেন্দ্র। মুসলমানরা ভারতে আগন্তুক। মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি, তাই ভারতীয় মুসলমানের জন্য অপরিহার্য ছিলো না কখনোই। এদেশে মুসলমানরা মূলত কিছু সংখ্যক বৌদ্ধ, বিপুলসংখ্যক হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত। এজন্যই নৃতাত্ত্বিক অবয়বে হিন্দু-মুসলমান একই গড়নের। ভারতের সংস্কৃতি এজন্যই সমন্বয়বাদী। এখানে গুরু নানক, কবির, দাদু, বুদ্ধ, লালনের মতো সমন্বয়বাদী সাধকরা চিরকাল ধর্মীয় কুসংস্কার, বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে। বাংলার নগরজীবনে এই মহামানবদের আদর্শ ছড়িয়ে দিয়েছেন বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ, মীর মশাররফ হোসেন, ক্ষিতিমোহন সেন, দীনেশচন্দ্র সেন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন প্রমুখ।

ভারতীয় সংস্কৃতির মরমী দার্শনিক কবীর মুসলমান ঘরে জন্মেও তার কোনো ধর্ম ছিলো না। তিনি সকল ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে মানুষের জয়গান গেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ কবীরের প্রতি এতোটাই মুগ্ধ ছিলেন যে, তার ১০০টি গান ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। আর লালন তো আরেক বিস্ময়! সর্পদেবী মনসার মাহাত্ম্যের ওপর রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের জন্ম এই পূর্ববঙ্গের জলাভূমিতে, পশ্চিমবঙ্গের রুক্ষ মাটিতে জন্ম বৈষ্ণব পদাবলীর। নদীমাতৃক পূর্ববঙ্গের ভাটিয়ালী গান, উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গান আর পশ্চিমাঞ্চলে কীর্তন, বাউলের প্রভাব সুসংহত গোটা বঙ্গভূমিতে। এই ভারতই আদি ভারত, এই বাংলাই আদি বাংলা।

কিন্তু রাজনৈতিক আক্রমণ আর সভ্যদের একের পর এক নিষ্ঠুর আঘাতে ভারত ভাগ হলো, বাংলা ভাগ হলো, বাংলাদেশ পাকিস্তানের ধর্মীয় শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হলো। মুক্ত হলেও ধর্মীয় খোলস ভাঙতে পারলো না। ধীরে ধীরে সবকিছু চলে গেলো ধর্মীয় বাস্তবতায়। সাধারণ মানুষের মগজে ধর্মীয় আচার এমনভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো যে, তার ওপর ভর করে শুরু হলো সংঘাত। ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে আজও ধর্ম বড় রকমের সিঁড়ি। গোটা ভারতে কিংবা বাংলাদেশে ধর্ম যেন রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা! অথচ এই ভারত কিংবা বাংলাদেশের মাটি হিন্দুরও নয়, মুসলমানেরও নয়। এই ভূমি মানবতাবাদী মানুষের। রাজনীতিই সবকিছু গ্রাস করে নিয়েছে। এখন তাকিয়ে দেখা ছাড়া উপায় নেই। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়