প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হরতালে চট্টগ্রামে গণপরিবহন স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিলো অপ্রতুল

রিয়াজুর রহমান : [২] হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় স্বাভাবিক ছিল গাড়ি চলাচল। তবে নগর থেকে রাউজান, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পটিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

[৩] রোববার (২ মার্চ) সকালে হরতাল চলাকালে নগরীর টাইগার পাস, ওয়াসা মোড়, কাজীর দেউড়ি, নিউমার্কেট স্পটে ঘুরে দেখা যায় রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পু, হিউম্যান হলার, সিটিবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল করেছে।

[৪] ব্যক্তিগত যানবাহন কম থাকায় রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা ছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

[৫] নগরীতে হরতালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি।

[৬] সড়কে যান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না জানিয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমি দেওয়ানহাট মোড়ে অবস্থান করেছি। সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া নগরের কোথাও পিকেটিং বা অপ্রীতিকর কিছুর খবর পাইনি।

[৭] চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, গতকাল রাতে হরতালে সব ধরনের পরিবহন ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু ভয়ে অনেক ড্রাইভার আসেনি। আবার অনেক ড্রাইভার চেয়েছে বন্ধ কাটাতে। তাই সড়কে গাড়ি একটু কম ছিল।

[৮] এদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে হেফাজত কর্মীদের অবস্থান, মাঝখানে পুলিশ ও অপরপ্রান্তে বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অবস্থান নেয়। কিছুক্ষনের জন্য পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

[৯] এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহন চললেও বড় গাড়ি তেমন চলে নি। শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে বড় যানবাহন তেমন ছাড়তে দেখা যায়নি।

[১০] সকাল থেকে পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই সড়কের যাত্রীরা।

[১১] এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিনহাজ মাহমুদ বলেন, হরতালে কেউ যাতে কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

[১২] হরতালের সামগ্রিক বিষয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, চট্টগ্রামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ চলছে। কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রকার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ রেখেছি। র‍্যাব আছে। বিজিবি স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

[১৩] হরতালের বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে সমর্থন দিয়েছে। মহাসড়কে কোথাও গাড়ি চলেনি না। ধর্মপ্রাণ মানুষ নিজেরাই হরতাল সমর্থন করে মাঠে নেমে এসেছে। আমরা হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।

সর্বাধিক পঠিত