প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. জাকির হোসেন: টেকসই উন্নয়ন হোক প্রত্যাশা ৫০  বছরের বাংলাদেশে

ডা. জাকির হোসেন: আমি কোনো ইতিহাসবিদ বা সমর বিশারদ নই। পাঠক সমাজে আমার লেখার গ্রহণযোগত্যা হয়তো বেশ নগন্য। কিন্তু একজন পাঠকও যদি হৃদয়গ্রাহ্য করে পত্রিকার কলাম পড়ে থাকে, তবে লেখাটি যেমন সত্যিকার অর্থেই সফল হিসেবে ধরে নেওয়া যায় তথাপি লেখকও নিজেকে অনেকাংশে ধন্য মনে করেন। লেখনীর হারিয়ে যাওয়া সোনালি অতীত জানি না ফিরে আসবে কিনা। তবে সামষ্টিকভাবে দেশের সকল স্তরের জনগণের মাঝে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে লেখনী একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আজকের লেখাটি কোন রাষ্টবিজ্ঞানী কিংবা ইতিহাসবিদ বিশদভাবে তুলে ধরতে পারলে হয়তো পাঠক সমাজে অধিক মাত্রায় সমাধৃত হতো। তারপরও একজন প্রতিভাবান সাংবাদিকের অনুরোধে সংক্ষেপে ইতিহাসের বহুমাত্রিক এক জটিল সমীকরণকে সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে।

১৭৬০ সাল এর পর থেকে ইংল্যান্ডে যে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়, সেখান থেকে মূলত কৃষি ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে আধুনিক শিল্পায়নের যাত্রা শুরু হয়। এই শিল্পায়নের ঢেউ ইংল্যান্ড থেকে পুরো ইউরোপ তথাপি পুরো বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ষোড়শ শতাব্দী থেকে সুমদ্র পথে যাত্রা পুরো বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের দ্বার খুলে দেয়। এই যাত্রা শিল্পায়নে নতুন মাত্রা এনে দেয়। দ্রুত গতিতে ঘুরতে শুরু করে সভ্যতার চাকা। শিল্প বিপ্লবের হাওয়া বিজ্ঞানের পালে নতুন গতির সঞ্চার করে।পুরো পাশ্চত্য বিজ্ঞান চর্চার উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়। পাশ্চত্যের উপনিবেশগুলো আভিধানিক অর্থে ভেঙে গেলেও তাদের নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে ভেঙে যাওয়া কলোনিগুলোতে পাশ্চত্যের দেশগুলো নব্য উপনিবেশ মনস্তত্ব নিয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। এই মনস্তত্বকে এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তা চেতনায় রূপ দিয়ে তারা তাদের শোষণের মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গিয়ে তারা গবেষণা শুরু করে কোন সূত্রে ফেলে এই সকল দেশকে আজীবন শাসন-শোষণ করা যায়।

এই গবেষণায় উন্নত বিশ্ব বহু জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিবর্গের মেধাকে মনুষ্যত্বের বিপরীতে ব্যবহার করেছেন। অনুন্নত বিশ্বকে শোষন করার জন্য তারা অনেক সূত্র তৈরি করে গেছেন যেগুলো সেদেশের রাষ্ট নেতারা শোষণের গুটি হিসেবে ব্যবহার করে গেছেন। এই সকল সূত্রের অন্যতম কয়েকটি সূত্র হলো। শিক্ষা ও বিজ্ঞান চচায় অনুন্নত বিশ্বকে পিছিয়ে রাখা, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে রাখা, সমরাস্ত্র ও সামরিক দিক দিয়ে  দুবর্র্ল করে রাখা।ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই সূত্রগুলোর ব্যবহার সহজেই চোখের সামনে ভেসে উঠে। পাক- ভারত উপমহাদেশ স্বাধীনতার সময় তারা এই প্রত্যেকটি সূত্র কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলকে কয়েকটি ভাগে স্বাধীন করে দিয়ে যায়। এই কুটিল সমীকরণের গহ্বর থেকে আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি এই অঞ্চলের শতকোটি মানুষ। পুরো অঞ্চলটিতে এখনও অশান্তি বিরাজমান। এশিয়ার পাক ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্য অথবা আফ্রিকার সুদান লিবিয়া কিংবা মিসর সর্বত্রই এই সূত্রগুলোর যোগসাজোশ অতি সরল ভাবে প্রতিয়মান হয়েছে। কিন্তু এতো সরলভাবে প্রতিয়মান হলেও এই অঞ্চলের জনগণের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলেনি শুধু মাত্র রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবে।

পাক ভারত উপমহাদেশের স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বতন্ত্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালে। ক্ষুদ্র আয়তনের মাটি ও মাতৃকার কৃষিনির্ভর এই দেশটি অতি সম্প্রতি এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরন করেছে। ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে আশাতীত ভূমিকা রেখে চলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানের স্লোগানকে সামনে রেখে বেশ জোরে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। অর্থনীতির অনেকগুলো সূচকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা চোখে পড়ার মতো। মন্দা মোকাবেলায় বাংরাদেশের কিছু উদ্যোগ সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ আরো বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশ সাফল্যের দাবি রাখে।

বর্তমানে বাংলাদেশ টেকশই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অজর্নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্যেগুলো সত্যিকার অর্থেই বেশ প্রশংসার দাবি রাখে। এই প্রশংসার পাশাপাশি ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করার নামই দেশপ্রেম। এই ব্যর্থতাগুলো রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকের চোখে এক রকম এবং দেশপ্রমিক রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আরেক রকম। দীর্ঘ ৫০ বছরের আমাদেও যেমন অনেক সফলতা আছে ঠিক তেমনই অনেক রকমের ব্যর্থতাও আছে। এই ব্যথর্তাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যথর্তা হলো রাজনীতি এবং গণতন্তকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ব্যর্থ হওয়া। এই ব্যর্থতার পিচনে সবচেয়ে বেশি দায়ী রাজনীতিতে দেশপ্রেম না থাকা। যে দেশপ্রেমের চেতনায় দেশ স্বাধীন হয়েছিল সে চেতনা কতটুকু আমাদের রক্তে সঞ্চারিত আছে তা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূতির্তে সময় আর ইতিহাসকে পর্যালোচনা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ব্রত হোক এই ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের দাবী।নতুবা আমারা পথ হারিয়ে দিশেহারা জাতিতে পরিণত হওয়ার একটা শংকা মাথায় নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। চিকিৎসক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত