প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাগজে-কলমে দোলনচাঁপা ২২টি চালু থাকলেও রাস্তায় চলছে মাত্র চারটি, বিড়ম্বনা আর ভোগান্তিতে নারীরা

নিউজ ডেস্ক : বিআরটিসির পাশাপাশি ২০১৮ সালে পরিবহন সংস্থা দোলনচাঁপা মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রথম বেসরকারিভাবে নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করে। বাংলাদেশের র‌্যাংগস গ্রুপ এবং ভারতীয় ভলভো আইশার ভেহিকল লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘দোলনচাঁপা’ এসি বাস সার্ভিসটির উদ্বোধন করেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এক বছরের মাথায় ২০১৯ সালে ‘দোলনচাঁপা’ বাসের সংখ্যা দাঁড়ায় চারটিতে। কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল, ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। রাজধানী থেকে ‘দোলনচাঁপা’ বাস এখন উধাও। কবে থেকে কেন এই বাস বন্ধ হয়ে গেছে সে সম্পর্কে কেউ জানে না। এ অবস্থায় পুরুষদের সঙ্গে গণপরিবহনে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নারীকে বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। রেহাই মিলছে না যৌন হয়রানি থেকেও। ইনকিলাব

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় দেশের ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে আবার বেশি হয়রানি হতে হয় ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারা। বেসরকারি সংগঠন অ্যাকশনএইডের এক জরিপের তথ্য মতে, বড় শহরগুলোতে বাসে পুরুষ যাত্রীদের মাধ্যমে ৪২ শতাংশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে ৫৩ শতাংশ নারী যাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হন।

নানামুখী হয়রানির কথা চিন্তা করে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক গণপরিবহন চালু করা হয় ২০১০ সালে। নারী যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ২২টি বাস চালু করে। তবে বিআরটিসির অন্যান্য সার্ভিসের মতো নারী যাত্রীবাসেরও বেহাল অবস্থা। করোনার দোহাই দিয়ে সেসব বাস বন্ধ হয়ে গেছে। এখন জীবনযাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও সেই বাসগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি চালু হয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ। বিআরটিসি জানায়, স্কুল-কলেজ খুললেই বাকি ১৮টি বাস নারীদের জন্য চালু করা হবে। এ অবস্থায় নারীদের যাতায়াতে আগের মতোই ভোগান্তি লেগেই আছে। এ প্রসঙ্গে কথা হয় কয়েকজন কর্মজীবী নারীর সাথে তারা বিআরটিসির বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিরপুরের বাসিন্দা আরজু মন আরা চাকরি করেন ব্যাংকে। মতিঝিলে তার অফিস। তিনি বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ করে অফিসে যাতায়াত করি। ভিড়ের মধ্যে কিছু মানুষ ইনটেনশনালি গায়ে হাত দেয়। অনেক সময় নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পুরুষ যাত্রী দখল করে রাখে। এ নিয়ে বাকবিতন্ডাও হয়। তিনি বলেন, আগে যে বাসগুলো চালু ছিল সেগুলো চালু করলেও অনেক সমস্যা কেটে যায়। করোনার দোহাই দিয়ে আরও কতো দিন?

উত্তরা এলাকার এক কর্মজীবী নারী বলেন, নারীদের আব্রু রক্ষার জন্য হলেও পৃথক বাস সার্ভিস থাকা জরুরি। মুসলিমপ্রধান দেশে এটা আশা করা অমুলক নয়। কিন্তু আমরা সেটা পাচ্ছি না। তিনি বলেন, অনেক দিনই ভিড়ের কারণে পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে বাসে উঠতে পারি না। আবার অনেক বাস নারী যাত্রী তুলতে চায় না। এসব কারণে কর্মস্থলে যাওয়া ও বাসায় ফিরতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। সাথে ভোগান্তি তো আছেই।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির জেনারেল ম্যানেজার (হিসাব) আমজাদ হোসেন বলেন, খরচ পোষানো যায় না বলে বিআরটিসির নারী বাসের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। অনেক সময় তেলের খরচটাই ওঠে না। তিনি বলেন, স্কুল, নারী এবং সার্কুলার সার্ভিস একটাও লাভজনক না। অফিস শুরু ও শেষের সময় ছাড়া পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যায় না। তবে যেসব রুটে রেভিনিউ ভালো আসবে সেগুলোতে আমরা বাস পরিচালনার জন্য তৎপর রয়েছি। কোনো এলাকায় নারী যাত্রী বাড়ার তথ্য পেলে আমরা সেখানে সার্ভে করি এবং বাস দিয়ে দিই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা সব সময়ই নারী যাত্রীদের অধিকার, তাদের জন্য আলাদা বাস এবং তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে সোচ্চার। আমরা সব সময় চেষ্টা করি এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের এবং পরিবহন মালিকদের চাপে রাখার। কিন্তু আমাদের গণপরিবহন সেক্টরটা আসলেই নারীবান্ধব নয়। সাধারণ যাত্রীরাই গণপরিবহনে অসহায়। সেখানে নারীদের অবস্থা তো আরো করুণ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত