প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাজতি নিখোঁজ

রাজু চৌধুরী: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে উধাও হয়েছে  ফরহাদ হোসেন রুবেল নামে এক হত্যা মামলার আসামি। যার হাজতি নম্বর ২৫৪৭/২১।  এ ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে তোলপাড়। জানা গেছে এর আগেও তিনি ২০১৮ সালে দুইবার কারা অভ্যন্তরে লুকিয়ে ছিলেন।

তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায়।তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সদরঘাট থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে জেলে এসে আবার উধাও কারা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ট সূত্র এ তথ্য  নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কারা সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কারাগারের ১৫ নম্বর কর্ণফুলী ভবনের ‘পানিশমেন্ট’ ওয়ার্ডে হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন রুবেলসহ অন্য আসামিদের রুমে তালাবদ্ধ করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শনিবার ভোর ৬টায় যখন আবার কক্ষের তালা খোলা হয় তখন হাজতিদের রোলকল করা হয়। তখনই সন্ধান মিলছিল না রুবেল নামের ওই হাজতির। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যেও তালাবদ্ধ একটা ভবন থেকে একজন হাজতির হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে কারা অভ্যন্তরে।

কারা অভ্যন্তরেই ওই হাজতি লুকিয়ে থাকতে পারে ধারণা করে সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। বাজানো হচ্ছে পাগলা ঘণ্টা এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশও কারাগারে প্রবেশ করানো হয়েছে। জিডির পর তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এস আই আইয়ূব উদ্দিনও কারাগারে প্রবেশ করেছেন।  কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

এর আগে ২০১৮ সালে নরসিংদীর রায়পুরার ফরহাদ হোসেন রুবেল দুইবার কারাগারের ড্রেনে ও ছাদে আত্মগোপন করেছিলেন সেই সময় ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর দুই বারই তাকে উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ। এবারও  সেই কৌশল  করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারা কর্মকর্তারা আশা করছেন, রাতের মধ্যেই কারাগারের ভেতর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাবে। রুবেলের উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান কোতোয়ালী থানায় করা জিডিতে (জিডি নম্বর-৪১৭) উল্লেখ করেন। ‘শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে তালামুক্ত করার পর ফরহাদ হোসেন ওরফে রুবেল নামে এক হাজতিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান ও জেলার মো. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, একটি মামলায় ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যান রুবেল।  জানা গেছে, রুবেল সদরঘাট থানার এসআরবি রেল গেইট এলাকায় ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তুচ্ছ ঘটনায় আবুল কালাম আবু নামের এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে বুকে ছুরিকাঘাত করেন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালাম হাসপাতালে মারা যান। ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হত্যার অভিযোগে ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রি পাড়া থেকে ফরহাদ হোসেন রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়়। সম্পাদনা: আতাউর অপু

সর্বাধিক পঠিত