শিরোনাম
◈ দিল্লিতে তিনতলা ভবন ধসে নিহত ২, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা বহুজনের ◈ এইচএসসি পরীক্ষায় এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ও ৩ ডিসেম্বর, ফল ২৩ ডিসেম্বর ◈ মোংলা বন্দরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের ◈ অ্যাম্বুলেন্স সেবা সিন্ডিকেটের দখলে, ভাড়ায় লাগাম নেই; রোগী ও মরদেহ পরিবহনে চরম ভোগান্তি ◈ মধ‌্যবর্তী নির্বাচ‌নে ট্রাম্পের দলের হারের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ, স্বীকার করলেন ভাইস প্রেসি‌ডেন্ট ◈ কুমিল্লায় এনআইডি করতে গিয়ে ঘুষের প্রতিবাদ, নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ ◈ বরিশালে বছরে ৩০ হাজার মানুষ আক্রান্ত ছানিতে, এক কোটি মানুষের ভরসা এক শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ◈ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ, এবার কঙ্গো গেলেন বিমান বাহিনীর ১১১ জন ◈ শ্রমিক অসন্তোষে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, চলছে ড্রোন নজরদারি ◈ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা হিমাংশু পাল

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২১, ১১:২৭ দুপুর
আপডেট : ০৬ মার্চ, ২০২১, ১১:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড. সেলিম জাহান: স্বাধীনতার মাস মার্চ : উত্তোলিত সেই পতাকা

ড. সেলিম জাহান: দাঁড়িয়েছিলাম একটু পেছনেই - বটগাছটি ঘেঁসে। কিন্তু তাতে কোন অসুবিধেই হচ্ছিল না সব কিছু দেখতে বা শুনতে। কলাভবনের সামনের সারা জায়গা ছেয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা। অন্য মানুষ আছেন সেখানে। ডানে তাকিয়ে দেখি মানুষের স্রোত ছাড়িয়ে গেছে রোকেয়া হলের মোড়। বাঁয়ে জনতার ঢল নীলক্ষেত অবধি। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি, কলাভনের বাঁদিকের প্রবেশপথের ওপরের যে গম্বুজ, সেখানে সব ছাত্র-নেতারা। মাইকে জ্বালাময়সে গম্বুজের নীচেই বাঁদিক তখন ছিল কলা অনুষদের ডীনের দপ্তর। ১৯৭১ সনের মার্চের ২ তারিখ। গতকালই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ইয়াহিয়া স্হগিত ঘোষণা করার পরে সারা বাংলাদেশ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জমায়েত হয়েছে কলাভবনের সামনে। ক্ষোভে জ্বলছে সবার মুখ, মুহুর্মুহু গর্জন উঠছে ‘জয় বাংলা’, শ্লোগানে শ্লোগানে ফেটে পড়ছে সারা প্রাঙ্গন, উত্তোলিত প্রতিবাদী হাত চারপাশে। আমি যখন চারপাশে তাকিয়ে এ সব দেখছি, তখন আমার পাশে দাঁড়ানো সতীর্থ বন্ধু বাবলু আমিনের চোখ চারতলা কলাভবনের ছাদের ওপরে। অসংখ্য শিক্ষার্থী সেখানে, সেই সঙ্গে কলাভবনের সব ক’টি তলার সামনের দিকের বারান্দায় গিজ্ গিজ্ করছে কালো কালো মাথা।

বিক্ষুব্ধ মুখ সর্বত্র। বাবলুর তাকানো দেখে তার অভিপ্রায় বুঝতে আমার আর বাকী থাকে না। তার ইচ্ছে ওই ছাদের ওপরে ওঠার। ‘ওটা ভেবে লাভ নেই। এই জনসমুদ্র ঠেলে তুই যেতে পারবি ওখানে’? স্মিত হাস্যে আমি বলি। ধরা পড়ে বাবলু লাজুক হাসে। এতো বছর পরেও ওর ওই লাজুক হাসিটি আমার মনে আছে। বাবলু আর আমাদের মাঝে নেই। মুক্তিযোদ্ধা লেফট্যানেন্ট বাবলু আমিন ফিরে আসেনি। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আসম আবদুর রব বক্তৃতা করছিলেন। হঠাৎ একটা শোরগোল উঠলো চারদিকে। সবার দৃষ্টি রোকেয়া হলের সামনের পথের দিকে। দেখা গেলো, একটি বাঁশের মাথায় একটি পতাকা বেঁধে রোকেয়া হলের দিক থেকে মঞ্চস্থলের দিকে একটি এগিয়ে আসছে। মিছিলের সেই পতাকা দেওয়া হল আসম আবদুর রবের হাতে। রব তখন সেই পতাকাটি তুলে ধরেন সবুজ-লালের পটভূমিতে সোনালী মানচিত্র বাংলাদেশের। সে দৃশ্য দেখে উত্তাল আবেগে ফেটে পড়ছিলাম আমরা সবাই। সবার কণ্ঠে ধ্বণিত হচ্ছিল ‘ বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরে, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। চারদিক থেকে শুধু ভেসে আসছিল সমুদ্রের তরঙ্গের মতো, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বাংলা’। আমার পরিস্কার মনে আছে, উত্তোলিত সেই পতাকার বাঁশটিকে এক পর্যায়ে আসম আবদুর রব জোরে জোরে দোলাচ্ছিলেন। আর তখনি সেই মুহূর্তে উত্তোলিত সেই পতাকা সারা আকাশ জুড়ে আন্দোলিত হচ্ছিল ‘আমাদের প্রানের পতাকা’ হয়ে। চিত্রকৃতজ্ঞতা : অনামা এক চিত্রগ্রাহক। সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ তাকে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ