শিরোনাম
◈ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ◈ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে ব্যয় বাড়লো ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ◈ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর, বাড়ল অর্থ উত্তোলনের সীমা ◈ বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ◈ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা ◈ হবিগঞ্জ উত্তেজনা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ ◈ জুলাইয়ের ২৮ দিনেই দেশে এলো ২৬২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স ◈ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে অধীর অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী ◈ জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবনমন

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২১, ১১:২৭ দুপুর
আপডেট : ০৬ মার্চ, ২০২১, ১১:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড. সেলিম জাহান: স্বাধীনতার মাস মার্চ : উত্তোলিত সেই পতাকা

ড. সেলিম জাহান: দাঁড়িয়েছিলাম একটু পেছনেই - বটগাছটি ঘেঁসে। কিন্তু তাতে কোন অসুবিধেই হচ্ছিল না সব কিছু দেখতে বা শুনতে। কলাভবনের সামনের সারা জায়গা ছেয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা। অন্য মানুষ আছেন সেখানে। ডানে তাকিয়ে দেখি মানুষের স্রোত ছাড়িয়ে গেছে রোকেয়া হলের মোড়। বাঁয়ে জনতার ঢল নীলক্ষেত অবধি। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি, কলাভনের বাঁদিকের প্রবেশপথের ওপরের যে গম্বুজ, সেখানে সব ছাত্র-নেতারা। মাইকে জ্বালাময়সে গম্বুজের নীচেই বাঁদিক তখন ছিল কলা অনুষদের ডীনের দপ্তর। ১৯৭১ সনের মার্চের ২ তারিখ। গতকালই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ইয়াহিয়া স্হগিত ঘোষণা করার পরে সারা বাংলাদেশ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জমায়েত হয়েছে কলাভবনের সামনে। ক্ষোভে জ্বলছে সবার মুখ, মুহুর্মুহু গর্জন উঠছে ‘জয় বাংলা’, শ্লোগানে শ্লোগানে ফেটে পড়ছে সারা প্রাঙ্গন, উত্তোলিত প্রতিবাদী হাত চারপাশে। আমি যখন চারপাশে তাকিয়ে এ সব দেখছি, তখন আমার পাশে দাঁড়ানো সতীর্থ বন্ধু বাবলু আমিনের চোখ চারতলা কলাভবনের ছাদের ওপরে। অসংখ্য শিক্ষার্থী সেখানে, সেই সঙ্গে কলাভবনের সব ক’টি তলার সামনের দিকের বারান্দায় গিজ্ গিজ্ করছে কালো কালো মাথা।

বিক্ষুব্ধ মুখ সর্বত্র। বাবলুর তাকানো দেখে তার অভিপ্রায় বুঝতে আমার আর বাকী থাকে না। তার ইচ্ছে ওই ছাদের ওপরে ওঠার। ‘ওটা ভেবে লাভ নেই। এই জনসমুদ্র ঠেলে তুই যেতে পারবি ওখানে’? স্মিত হাস্যে আমি বলি। ধরা পড়ে বাবলু লাজুক হাসে। এতো বছর পরেও ওর ওই লাজুক হাসিটি আমার মনে আছে। বাবলু আর আমাদের মাঝে নেই। মুক্তিযোদ্ধা লেফট্যানেন্ট বাবলু আমিন ফিরে আসেনি। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আসম আবদুর রব বক্তৃতা করছিলেন। হঠাৎ একটা শোরগোল উঠলো চারদিকে। সবার দৃষ্টি রোকেয়া হলের সামনের পথের দিকে। দেখা গেলো, একটি বাঁশের মাথায় একটি পতাকা বেঁধে রোকেয়া হলের দিক থেকে মঞ্চস্থলের দিকে একটি এগিয়ে আসছে। মিছিলের সেই পতাকা দেওয়া হল আসম আবদুর রবের হাতে। রব তখন সেই পতাকাটি তুলে ধরেন সবুজ-লালের পটভূমিতে সোনালী মানচিত্র বাংলাদেশের। সে দৃশ্য দেখে উত্তাল আবেগে ফেটে পড়ছিলাম আমরা সবাই। সবার কণ্ঠে ধ্বণিত হচ্ছিল ‘ বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরে, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। চারদিক থেকে শুধু ভেসে আসছিল সমুদ্রের তরঙ্গের মতো, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বাংলা’। আমার পরিস্কার মনে আছে, উত্তোলিত সেই পতাকার বাঁশটিকে এক পর্যায়ে আসম আবদুর রব জোরে জোরে দোলাচ্ছিলেন। আর তখনি সেই মুহূর্তে উত্তোলিত সেই পতাকা সারা আকাশ জুড়ে আন্দোলিত হচ্ছিল ‘আমাদের প্রানের পতাকা’ হয়ে। চিত্রকৃতজ্ঞতা : অনামা এক চিত্রগ্রাহক। সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ তাকে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়