প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মন্ত্রী বা কারো দ্বারা প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না, টাকা দিতে হবে: ঋণখেলাপিদের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট

নূর মোহাম্মদ: [২] নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ৪৫ ঋণখেলাপি হাইকোর্টে হাজির হন। এসময় আদালত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ছিলে এসব দেখার। তারা করেনি। আমরা এখানে অন্য স্বাভাবিক কাজ করতে পারছিনা। আপনারা টাকা দিয়ে দেন। কারো দ্বারা প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করবেননা।

[৩] আদালত বলেন, আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা জমা রেখেছিল, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা। অফিসে যোগাযোগ করে আগে কিস্তি অনুযায়ী টাকা দিন, পরে কথা বলুন। তা না হলে কারাগারে দেব।

[৪] আদালত আরও বলেন, আইনের মধ্যে থেকেই টাকা দিতে হবে। এসময় কয়েকজন ঋণখেলাপি আদালতকে জানান, যে পরিমাণ দাবি করা হচ্ছে সে পরিমাণ তারা ঋণ নেননি। ন্যাশনাল হ্যাচারির একজন বলেন, ২৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এখন বলা হচ্ছে ৭২ কোটি টাকা। এসময় আদালত বলেন, প্রথম কিস্তি দিয়ে তারপর বাকী আলোচনা করে নিবেন বোর্ড বা কমিটির সঙ্গে। সে সময় বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।

[৫] আরেফিন সামসুল আলম নামে একজন বলেন, আমাকে ৩৮৪ কোটি টাকার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমার সব বন্ধ। এমনকি ব্যাংক হিসাবও। আদালত তার মাসিক কিস্তি জানতে চাইলে তিনি ২০ লাখ টাকা বলে জানান। এসময় আদালত বলেন, আমরা আদেশ দিয়ে দিচ্ছি। আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবেনা, শুধু বের হবে।

[৬] মতিউর রহমান নামের একজন বলেন, তাকে ১৬৮ কোটি টাকার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ঋণ নেননি, জামিনদার ছিলেন। দিলারা নামে এক নারী আদালতকে বলেন, তিনি পিপিলস লিজিং-এ ১৪ বছর চাকরি করেছেন। তার নামে ২১ লাখ টাকা খেলাপি দেখানো হচ্ছে। তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসময় আদালত তাকে বলেন, কোম্পানির কাজ শুরু হলে তাকে আবারও লাগবে। তখন বিষয়টি দেখা হবে।

[৭] ইমদাদ নামে একজন আদালতকে বলেন, আমি কোন ঋণই নেইনি। অথচ নোটিশ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকার। এছাড়া ১৮ লাখ টাকা খেলাপির অভিযোগে একজন হাজির হয়ে বলেন, পিপলস লিজিং-এ আমার ২ কোটি টাকা রয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে আমি খেলাপি।

[৮] শুনানির সময় এক আইনজীবী বলেন, আদালত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমানতকারীরা আলোর মুখ দেখছেন। বাহিরে আলোচনা হচ্ছে এভাবে যদি আরও দুই একটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সাহস পাবে। এসময় আদালত বলেন, এটা তো কোর্টের কাজ না। এর জন্য যাদের দায়িত্ব রয়েছে তারা কেন এটা করছেন না? আমাদের কাজ হলো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করা। এখন প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে চাই বলে এসব করতে হচ্ছে।

[৯] পিপল লিজিং থেকে ঋণ গ্রহণ করা সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। তলবে এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ৫১ জন হাজির হয়েছিলেন। দুই দিনে যারা আসেননি তাদেরকে আগামী ৯ মার্চ আবারও হাজির হতে বলেছেন আদালত। আদালত বলেন, তলবে যারা আসেননি, তাদেরকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরও তারা না আসলে প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করে কোর্টে হাজির করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত