প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৯ [২] দ্বিগুণ লাভের ফাঁদে ফেলে ৭ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

সুজন কৈরী : [৩] বিনিয়োগের টাকা ২৪ মাসে দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছিলো একটি রিয়েল এস্টেট বা আবাসন কোম্পানি। গত দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে চক্রটি।

[৪] এই চক্রের ৯ সদস্যকে মঙ্গলবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)ও ঢাকা মেট্রো পশ্চিম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আল আমিন, মামুন, মঞ্জুর রহমান মোহন, মোজাম্মেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদত হোসেন সুমন ও আমিনুল ইসলাম।

[৫] চক্রটির অফিসে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফ্ল্যাট বুকিংয়ের আবেদন ফরম ৫০টি, এসএস আবাসনের লেনদেনসংক্রান্ত রেজিস্ট্রার সাতটি, এসএস আবাসনের চুক্তিপত্র একশ টাকা দামের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৩৬টি, আবেদন ফরম ৩৫টি, গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন সংক্রান্ত খাতা ১৭টি, ডেবিট ভাউচার দুটি, মানি রিসিট ছয়টি, কমিশন সিটের ছয়টি পাতা, বিপুল পরিমাণ ভিজিটিং কার্ড জব্দ করেছে সিআইডি।

[৬] বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসার নামে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের অধিক মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে প্রতারণা করছে একটি চক্র- এমন অভিযোগে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন একজন ভুক্তভোগী। তদন্তে নেমে সিআইডির ডিএমপি পশ্চিম থানার কর্মকর্তারা জানতে পারেন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে চক্রটি চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতো। এরপর তারা ঠিকানা পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন অফিস খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করতো।

[৭] অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন, এই চক্রটি এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। চক্রের মূল টার্গেট ছিল অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এমনকি অনেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে চক্রের মূল দুই হোতা পালিয়ে গেছেন। তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
[৮] অবসরপ্রাপ্ত লেন্স কর্পোরাল আইয়ূব হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতি লাখ বিনিয়োগে মাসে লাভ ৬ হাজার ৩০০ টাকা। লাভের আশায় কথিত এসএস আবাসন কোম্পানিতে ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি।ভুক্তভোগী বলেন, আমি এমডির বউয়ের অ্যাকাউন্ট সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি, আমি শেষ।

[৯] সিআইডি বলছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসার কথা বলে অনলাইনে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিতো। এই ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই।

[১০] সিআইডি'র অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, পূর্বাচলে তাদের প্লট দেখিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে চক্রটি। গত দেড় বছরে ৬ থেকে ৭ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে তারা। ভুক্তভোগীদের বলা হয়েছে লাখে ৬ হাজার ৩০০ টাকা লাভ দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

[১১] সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, চক্রের মূল হোতা এখনও পলাতক। এখন পর্যন্ত সিআইডির তদন্তে ওই কোম্পানির রিয়েল এস্টেট ব্যবসার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত