প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুলাউড়ায় সংরক্ষিত বন দখলে খাসিয়াদের তাণ্ডব : বন বিভাগের ৩কর্মীসহ আহত ৬

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের গহীন অরণ্য নুনছড়া ও রুশনাবাদ এলাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভোর ৬টায় বনবিভাগের লোকজনের উপর খাসিয়ারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

[৩] এতে ৩ বনকর্মীসহ ৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বনবিভাগ ১১ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামী করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ইতিপূর্বে ২ বার খাসিয়ারা একই স্থানে বনবিভাগের উপর হামলা চালায়।

[৪] বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে নুনছড়া ও রুশনাবাদ মৌজা এলাকায় বনবিভাগ ১০ হেক্টর সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুন মাস থেকে পরিকল্পনা করছে। সে লক্ষ্যে একটি নার্সারীর কাজ গত অক্টোবর মাসে শুরু করে। কিন্তু খাসিয়ারা বনভিাগের সেই কার্যক্রম বিনষ্টের লক্ষ্যে এবং উক্ত জমি জবর দখলের লক্ষ্যে নানা ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা শুরু করে। ২৮ অক্টোবর নার্সারীর কাজে প্রথম বাঁধা দেয়। খাসিয়াদের বাঁধার মূখে বনবিভাগ ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে এবং কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এরপর গত ২৩ নভেম্বর ২য় দফা বনবিভাগের কাজে বাঁধা ও হামলা চালায়। এব্যাপারে বনবিভাগ কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

[৫] বনবিভাগ নার্সারীতে ইতোমধ্যে চারা উৎপাদন কাজ শেষ করেছে। উৎপাদিত চারা পলিব্যাগে তোলার কাজ শুরু করে। শনিবার ভোর ৬টায় বনকর্মীরা নার্সারীতে কাজ করার মুহুর্তে অতর্কিতে হামলা চালায়।

[৬] কুলাউড়া রেঞ্জার রেজাউল হক জানান, খাসিয়ারা তীরধনুক, বন্দুক, গুলতি ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলায় বনপ্রহরী আব্দুল হালিম, বনমালী জিয়াউর রহমান, প্রহরী প্রতাপ চন্দ্র দেব, উপকারভোগী ও শ্রমিক ইছাক আলী, এলাইচ মিয়া ও ফজলু মিয়া আহত হন। আহতদের মধ্যে ইছাক আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

[৭] রেঞ্জার আরও জানান, বনকর্মী ও উপকার ভোগীরা আহত হওয়া ছাড়াও খাসিয়াদের হামলায় চারাসহ ১০ হাজার পলি ব্যাগ ও নার্সারী জন্য নির্মিত শেডঘর ভাঙচোর করেছে। এতে বনবিভাগের ২ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় নলডরী বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

[৮] কুলাউড়া রেঞ্জার রেজাউল হক বলেন, খাসিয়ারা একতরফাভাবে বনবিভাগের লোকজনের উপর হামলা করেছে। বার বার হামলার ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের কারণে সরকারি কাজ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। হামলার পরও ঘটনাস্থলে বনবিভাগের লোকজন রয়েছে। ফলে তাদের উপরও ফের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বনবিভাগের লোকজন রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়। এভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান।

[৯] নুনছড়া পানপুঞ্জির মন্ত্রী ববরিন খাসিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত