প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিএমপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত [২] বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে পুলিশ এগিয়ে যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসমাইল ইমু ও সুজন কৈরী :[৩] ‘শান্তি শপথে বলীয়ান’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জননিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে মহামারি করোনার কারণে স্বল্প পরিসরে দিবসটি পালন করা হয়।
[৪] শনিবার সন্ধ্যায় রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে রাজারবাগে প্রতিষ্ঠা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।
[৫] অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ তাদের সেবার মান বাড়িয়েছে। প্রতিটি থানায় নারী শিশুর জন্য হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে। জনগনের আস্থার প্রতীক হিসেবে পুলিশের চালু করা বিভিন্ন সেবা বিবেচিত হয়েছে। পুলিশ সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ মোকাবেলা, সাইবার অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে যে ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসনীয়।
[৬] পুলিশ বাহনী নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সফল হচ্ছে বলেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, করোনায় যখন মানুষ মারা যাওয়া শুরু করলো, বাবার ডেড বডি হাসপাতাল থেকে সন্তানরা নিচ্ছে না সে সময় পুলিশ লাশ নিয়ে দাফন করেছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়েছে। যেকোনো দুর্যোগে পুলিশ পাশে দাড়াচ্ছে। যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। পুলিশ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাচ্ছে। যখনি যেটা প্রয়োজন হয়েছে জনগনের স্বার্থ রক্ষার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে।
[৭] আইজিপি বলেন, দুর্নীতি আর পুলিশ একসঙ্গে চলতে ও উচ্চারিত হতে পারে না। আমরা সবাই মিলে দুর্নীতির মতো সর্বশেষ কলঙ্কচিহ্ন পায়ের নিচে দলে মুছে ফেলতে চাই। পুলিশ থেকে দুর্নীতিকে আমরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে চাই। এজন্য দরকার সাহস ও আত্মত্যাগের মনোভাব। আমি মনে করি প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসব রয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
[৮] পুলিশের মধ্যে যদি কোনো অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি থাকে, সেটাকে ঝেড়ে ফেলে সৎ ও স্বচ্ছ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। মানুষ চায় একটি সৎ, স্বচ্ছ পুলিশ বাহিনী। সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
[৯] পুলিশকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছে, তখনই পুলিশের কাছে এসেছে। সেই আস্থার জায়গাটাকে বিশ্বাসের জায়গাটাকে আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে লালন করতে হবে। আমরা থানাকে সর্বোচ্চ আস্থার জায়গা করতে চাই। কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইজি পর্যন্ত সকলের ভূমিকা ও একই মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
[১০] সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইজিপি ডিএমপির উপর যে আস্থা রেখেছেন, সর্বোচ্চ দিয়ে সেই আস্থার মর্যাদা অবশ্যই আমরা রাখবো। ঢাকা মহানগর পুলিশ বর্তমানে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করছে। ভবিষ্যতে কি ধরণের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সেটি মাথায় রেখে ডিএমপি কাজ করছে।
[১১] তিনি বলেন, দুদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে টক শোতে অংশগ্রহণ করেছি, আমি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছি, আমারা সিনিয়র অফিসাররা, আমি মিডিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ করলাম যে, আমি কোনো ধরণের অনৈতিক কাজ বা দুর্নীতি করি, এটার পেছনে আপনারা লেগে থাকেন। আমরা কোনও ধরণের অনৈতকি লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না।
[১২] কমিশনার বলেন, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, মানুষকে ভালবাসা এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ এই মন্ত্রে দীক্ষিত। আমরা মানুষকে ভালাবেসে পাশে দাঁড়াতে চাই। সম্পদ হানি, দুর্যোগসহ যেকোনও প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। ঢাকা মহানগরীরর প্রতিটি মানুষ আমার কাছে দেবতার মতো। আমার কাছে রাষ্ট্রের মালিক তারা। তাদের সেবা করবো, সেজন্য চাকর হিসেবে চাকরি নিয়েছি। এই মানষিকতা নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত