শিরোনাম
◈ ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাড়ছে না কেন? ◈ পাঁচ দিন পর ডাকসুর মেয়াদ শেষ, পরের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ◈ তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে সরকার ◈ মানব পাচারের অন্যতম রুট হয়ে উঠছে পঞ্চগড় সীমান্ত ◈ সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা: সংসদে বিল পাস ◈ সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৪ হাজারের বেশি আটক, ফেরত পাঠানো হলো ১২ হাজার ◈ মালয়েশিয়ায় ভিসাবিহীনদের দেশে ফেরার আহ্বান বাংলাদেশ হাইকমিশনের ◈ জ‌য়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হে‌রে গে‌লো বাংলাদেশ ◈ জু‌নিয়র নারী এশিয়া কাপ হ‌কি‌তে পাকিস্তানকে ৫-১ গো‌লে হারা‌লো বাংলাদেশ ◈ ভারতের কাছেও হার, এশিয়ান কাপের মূলপ‌র্বে খেলার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তামাকের জমিতে সবজি চাষ

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর উৎস-স্থল খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা। এই উপজেলার তিন শতাধিক কৃষক পেশা পরিবর্তন করেছেন। তারা তামাক চাষ বাদ দিয়ে এখন উৎপাদন করছেন শাক-সবজি। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

মানিকছড়ি উপজেলার গোরখানা এলাকার তামাক চাষি গিয়াস উদ্দিন। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি নিজের ১২ কানি জমিতে তামাক চাষ করতেন। তিনি এখন তামাক চাষের নেতিবাচক পরিণতি বুঝতে পেরে ফিরে আসেন মূলধারার সবজি চাষে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে হালদা নদীতে প্রথমবারের মতো মাছ ডিম ছাড়েনি। এ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হালদা নদী রিসার্চ ল্যাবরেটরি। জানা গেল, হালদার উজান অঞ্চল মানিকছড়ি এলাকায় আট বছর আগে সীমিত আকারে শুরু হয় তামাক চাষ। কয়েকটি তামাক কোম্পানির বিশেষ প্রণোদনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন ‘প্রজনন মৌসুমে হালদায় মাছের ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজন পাহাড়ি ঘোলা পানির ঢল। এই পাহাড়ি ঢল না আসলে প্রজনন ক্ষেত্রে মা মাছ ডিম ছাড়ে না। স্বাভাবিকভাবে এই পাহাড়ি ঢলের পানি তামাকের বিষাক্ততা নিয়ে আসলে মা মাছ ডিম ছাড়বে না। ২০১৬ সালে তাই ঘটেছিল।’ পরে চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি একটি বেইজলাইন স্টাডি করে তামাক চাষিদের মূলধারার কৃষিকাজে ফেরাতে কিছু সুপারিশ করে। মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে উন্নয়ন সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় তামাক চাষিদের সবজিচাষে উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেড় শতাধিকসহ প্রায় ৩০০ তামাক চাষি মূলধারার কৃষিকাজে পেশা শুরু করেছেন। পশুপালন, পাহাড়ি মুরগী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, হালদার মৎস্য চাষ, কুচিয়া চাষ এবং ফসল হিসেবে রামবুটান, বারো মাসি আম, তাইওয়ানের কাঁঠাল, বাতাবি লেবু, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, ড্রাগন ফল, চীনা বাদাম ও আলু বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদাকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে সরকার। তামাকসহ নানাভাবে এটির স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করা হয়েছিল। চবি ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘হালদা নদীর উৎসস্থল মানিকছড়িতে তামাক চাষের পাতা ও অবশিষ্ট গুড়া নানাভাবে হালদা নদীতে পড়ে। ফলে একবছর মা মাছে অস্বাভাবিক কম ডিম দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তামাকের ক্ষতিকারক নিকোটিন পদার্থ তামাক শুকানোর সময় মানুষের দেহের ও শরীরের ক্ষতি করে থাকে।’ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • সর্বশেষ