প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোপালগঞ্জের হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমে ভিন্নধর্মী পিঠা উৎসব

সাবেত আহমেদ: [২] শনিবার কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমে খাদ্য দাতা সদস্যদের উদ্যোগে ভিন্ন মাত্রার পৌষপার্বণের এই বাৎসরিক পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

[৩] যাদের কেউ নেই, পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো এই অসহায়, অবহেলিত, নিপীড়িত বয়:বৃদ্ধ যারা এই বৃদ্ধাশ্রমে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন; তাদের নিয়েই এই পিঠা উৎসবের মূল আয়োজন। উৎসবের সকাল শুরু হয় বিভিন্ন ভক্তিমূলক গান দিয়ে। আগত খাদ্য দাতা সদস্যরা কেউ বাড়ি থেকে আবার কেউ এখানে এসে তৈরি করেছেন বিভিন্ন ধরণের পিঠা-পুলি। দুপুরে আশ্রমে আশ্রয় পাওয়া ২২জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে পিঠা-পুলি খাওয়ানো হয়। বিকেলে আর্তমানবতার সেবায় শীর্ষক একটি আলোচনা সভা হয়।

[৪] ‘তৃষ্ণার্তকে জল দান, ক্ষুধার্তকে অন্ন; আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দান, ইহাই মানব ধর্ম’ – এমন একটি স্লোগান নিয়ে ১৯৯৬ সালে হাইশুর গ্রামে স্থাপিত হয় হাইশুর বৃদ্ধাশ্রম। বৃদ্ধাশ্রমের রয়েছে ১২৬ জন খাদ্য প্রদানকারী সদস্য; যারা বছরে অন্ত:ত ১ দিনের খাদ্য বৃদ্ধাশ্রমে প্রদান করেন। তাদের এ মহানুভবতায় এখনও বেঁচে রয়েছে বৃদ্ধাশ্রমটি।

[৫] বর্তমানে এখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন ২০ জন; যাদের ১৪ জন নারী বাকী ৬ জন পুরুষ। এদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ৫ জন বাকীরা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের। অসহায়, নি:সন্তান, বিধবা ও স্বামী-পরিত্যাক্তা এধরণের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা এখানে আশ্রয় পেয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়া, সেবা-শুশ্রুষা ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমের সেবক আশুতোষ বিশ্বাস (আশু)।

[৬] প্রতিদিন সকালে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ঘুম ভাঙ্গানো থেকে বাজার-ঘাট, খাওয়া-দাওয়াসহ রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রায় সকল কাজেই তাকে সহযোগিতা করেন তার সহধর্মিনী মনিকা রানী বোস। তিনি একটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধানশিক্ষক। তার মাসিক বেতনের বড় একটি অংশ তুলে দেন স্বামীর হাতে, ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের প্রয়োজন মেটাতে।

[৭] সমাজের অবহেলিত, সহায়-সম্বলহীন অসহায় বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এ পর্যন্ত হিন্দু-মুসলিমসহ মোট ৪২ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এ বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন; যাদের ২২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আশুতোষ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আশেপাশের বিভিন্ন শ্মশাণে ও কবরে তাদের সমাহিত করেছেন।

[৮] যারা এখনও আছেন, তারা এ বৃদ্ধাশ্রমটিকে মনে করেন এটাই তাদের শেষ বয়সের নিরাপদ ঠিকানা। কিন্তু শুধুমাত্র খাদ্য-প্রদানকারী সদস্যদের সহযোগিতা দিয়ে তাদের আহার, পরিধেয় বস্ত্রাদি ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো ভেলায় করে সাগর পাড়ি দেয়ার মতোই কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধাশ্রমের সেবক আশুতোষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, দিনে দিনে বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সংখ্যা বাড়ছে। বসবাসের ঘর-বারান্দা থেকে শুরু করে কোনকিছুই পর্যাপ্ত নয়। অর্থাভাবে বৃদ্ধাশ্রমের অনেক প্রয়োজনই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সবাইকে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত