শিরোনাম
◈ ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৪০ ◈ ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও শেষ হচ্ছে না আন্দোলন, একাধিক নতুন দাবি ◈ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে, অফিস বঙ্গভবনে ◈ দেশে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ শনাক্ত ৬৯১ ◈ আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ◈ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে দলের উচ্চপর্যায়ে: রিজভী ◈ রান্না করা মাংস কেন সবুজ হলো? ব্যাখ্যা দিলেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ◈ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে করণীয় কী জানালেন আইনমন্ত্রী (ভিডিও)  ◈ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস ◈ মেধাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৯:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপু তৌহিদুল: আমাদের মাইন্ড সেটের পরিবর্তন ভীষণ মুখ্য

দীপু তৌহিদুল: ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ নিয়ে লেখার সময়ই জানতাম অনেকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পেচিয়ে নিয়ে এটাকে দেখবেন। ধরেন একজন মুসলিম লেডি এক্সিডেন্ট করে হসপিটালে এসেছে আর এমারজেন্সিতে হিন্দু কিংবা খ্রিস্টান পুরুষ ডাক্তার ছাড়া কেউ নেই, তাই তাকে জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তারা সারভ করলো, এটাতে কি মুসলিম লেডির ধর্মীয়ভাবে কোন পাপ হবে? আমার কিন্তু মনে হয় না, কারণ বিপদে মুহূর্তে কোনো ভেদাভেদ থাকাটাই অমানবিক চিন্তা।
বিপদে ধর্ম চিন্তা আসলে কাজই করে না। এমনকি কট্টর মৌলবাদী মনের হিন্দু কিংবা খ্রিস্টানও তার এক্সিডেন্ট মুহূর্তে মুসলিম ডাক্তারের সহায়তা নেবে। আজ পর্যন্ত শুনি নাই, বিপদের সময় সারভ করতে আসা ডাক্তারের ধর্মীয় পরিচয় কেউ জানতে চেয়েছে! ভারতের বিখ্যাত হার্ট সার্জন দেবী শেঠির হসপিটালে বাংলাদেশি অর্থবান আলেমকে চিকিৎসা নিতেও দেখেছি, অথচ তারা ওয়াজ মাহফিলে অন্য ধর্মের মানুষ সম্পর্কে যা উচ্চারণ করে তার সঙ্গে বিষয়টা যায় না, অবশ্যই এই ক্ষেত্রে তাদের মুসলিম ডাক্তারের সহায়তা নেয়ার কথাই ছিল! এটা কী ধরনের আচরণ তা বলে দেয়া জরুরি নয়।

আজকের দিনে মেডিকেল ইকুপমেনট ও ল্যাব কেমিক্যালগুলো কারা বানাচ্ছে? অবশ্যই মুসলিম কোনো কোম্পানি নয়। অথচ মুসলমানরা সে সব বিনা প্রশ্নেই ব্যাবহার করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কথা আমরা বলি না, কারণ জানি এসব জিনিসের সাহায্য নিতেই হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে জাত- পাত বর্ণ প্রথা রয়েছে। সেই ভারত পর্যন্ত সফলভাবে ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ সাপোর্ট নিয়ে তাদের দেশের নবজাতক মৃত্যুর হার কমিয়ে ফেলেছে। এর মানে একটাই ভারতীয়রা শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে সহজতর করে দেখেছে।

বাংলাদেশে নবজাতক শিশুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয় কি খরচ করে তা আমার জানা নেই, অথচ দেশের প্রতিটি জেলায় ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ স্থাপিত হলে শিশু মৃত্যুর হার কমে যেতো। দেশের প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক স্থাপনে মাত্র এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

যারা ডোনারের নাম, ধর্ম ও পরিচয় নিতে চাচ্ছেন, তাদের ভাবা উচিত ফিট ও সুস্থ মায়ের জন্য টাইট আইন তাকে অবশ্যই মিল্ক ডোনেট করতে নিরুৎসাহিত করবে। রূপক হিসেবে বলবো এই আমি অবশ্যই আমার স্ত্রীর নাম, ধর্ম ও পরিচয় জানতে চাওয়া অসহায় পরিবারকে মিল্ক ডোনেট করবো না।

ডোনারদের কোনো ঠেকা পড়েনি তাদের বায়োডাটা বিপদে পড়া পরিবারকে দিয়ে দেবার, মানুষের প্রাইভেসি বলেও কিছু থাকে। যার দরকার সে নেবে, যে আইনের ফ্যাঁকড়া সামনে আনবে তার নেবার দরকার নেই। ডোনার সব সময়ই সম্মানের মানুষ, বিধায় একটা খুব সাধারণ পলিসির মাধ্যমে এটা চলতে পারে। এই যে আমরা ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত গ্রহণ করি, সেই ব্লাড ব্যাগে কি কোনো ধর্ম পরিচয় লেখা থাকে? রেগুলার ডোনার হিসেবে রক্ত দেয়ার সময় আমি কোনদিন জানতে চাইনি কোন ধর্মের মানুষকে রক্ত দিচ্ছি, কারণ মানবিকতার প্রসঙ্গে এসব প্রশ্ন অবাস্তব। আমাদের মাইন্ড সেটের পরিবর্তন ভীষণ মুখ্য, পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগকে উৎসাহ দেয়াটা খুব জরুরি। এখন আপনার পছন্দ আপনি কি করবেন আর না করবেন, তবে মুখে যে যাইই বলুন আসল বিপদ সময়টাই বলে দেবে আপনি কোন পথ ধরে হাটবেন। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়