প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আহমদ আল কবির: বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় পদ্মা সেতু

ড. আহমদ আল কবির: পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং এটি বাংলাদেশের অর্থায়নে সর্ববৃহৎ প্রকল্প। তবে স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু তৈরির শুরু থেকে অনেক বাঁধা এসেছিলো। আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো বলেছিলো, বাংলাদেশ নিজের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় এই সেতু করা খুবই কঠিন হবে। কিন্তু এখন আমরা দেখছি, পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে শেষ স্প্যানটি আর কয়েকদিনের মধ্যে বসানো হবে। এটি শুধু সেতু হবে না, সঙ্গে রেললাইন এবং আরও অনেক কিছুই থাকবে। এটি বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী ও সাহসী একটি প্রকল্প ছিলো। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পদ্মা সেতুর এপার-ওপার দুই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোদিন অনেক পুরনো আমলের ছিলো, পণ্য পরিবহন খরচ, সময়, আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কারণে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের নতুনভাবে উত্তরণ হবে, জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে একটি বড় ধরনের উলম্ফণ হবে। অনেকে বলছেন, জিডিপিতে ২-৩ শতাংশ উলম্ফণ হতে পারে। প্রবৃদ্ধিতেও কমপক্ষে ১-২ শতাংশ উলম্ফন হবে, এটি নিশ্চিত। করোনা মহামারির মধ্যেও পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে উপকৃত হবে।

দেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই কৃষি নির্ভর। এখানে কৃষি বলতে শুধু ধান, চাল নয়, ফলমূল, মাছ-মাংস-সহ সবকিছু ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কৃষকেরা এতোদিন দাম পেতো না। পণ্য সরবরাহ কিংবা আনা-নেওয়ার সুবিধায় সীমাবদ্ধতা ছিলো। কিন্তু এখন পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতির ফলে কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ছাড়াও বড় শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এছাড়া এই দুই অঞ্চলের মধ্যে নদীর এপার-ওপারের শুধু যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে তা নয়, সঙ্গে নদীর এপার থেকে অনেক কিছু ওপারেও যাবে, এতে করে মানুষের জীবনযাত্রার মানের একটা পরিবর্তন আসবে। এই সেতুর ভালো দিক ছাড়া খারাপ দিক নেই, তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, সেতুটির পরিচর্যা যাতে হয় ঠিকঠাকমতো। পরিচর্যা বলতে নদী শাসন ঠিকমতো করতে হবে। আমাদের দেশের নদীতে অনেক পলি বের হয়, বর্ষা মৌসুমে সরকারি বিভিন্ন এজেন্সিগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে এ বিষয়ে।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সেতুর দুই পারে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এছাড়া ডেভেলপমেন্ট জোনগুলো হচ্ছে ইপিজেড টাইপের, এই জোনগুলোও দারুণভাবে আকর্ষণীয় হবে। কারণ নৌ-পথে পণ্য পরিহন করা যাবে, আবার সড়ক পথেও চলা যাবে। রেলপথের সঙ্গে কানেকশনটা আরও শক্তিশালী হবে। সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি বিরাট মাইফলক হিসেবে থাকবে। পদ্মা সেতু দেশের ভাবমূর্তিকে বিশে^র দরবারে নতুনভাবে তোলে ধরছে। আমাদের কারিগরি লোকজনের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে তারা পদ্মা সেতুতে ব্যাপকভাবে কন্ট্রিবিউট করতে পারছে। বিদেশি ইঞ্জিনিয়রেদের উপর আমাদের নির্ভরতা কমবে দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে।

পরিচিতি : সাবেক চেয়ারম্যান, রূপালী ব্যাংক।

সর্বাধিক পঠিত