প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২৪ হাজার যানবাহন চলবে প্রতিদিন, দেশের জিডিপি বাড়বে ১.২৩ শতাংশ হারে

ডেস্ক রিপোর্ট: পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াতে গড়ে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এটা শুধু অভ্যন্তরীণই নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সেতুতে টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে ফেরিতে একটি বড় বাস পদ্মা নদী পার হতে লাগে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। পদ্মা সেতু হলে টোল দিতে হবে ২ হাজার ৩৭০ টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার জন্য বড় বাসের টোল ৯০০ টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলও হবে কয়েক গুণ বেশি।

এদিকে টোল আদায়ের হার ঠিক করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ধরে। ২০২১ সালে পদ্মা সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৮ হাজার বাস চলাচল করবে ধরা হয়েছে। ৩৫ বছর পর এ সংখ্যা দিনে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এডিবির সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শুরুতে যদি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়, তা হলে ওই বছর সেতু দিয়ে দৈনিক চলাচল করবে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন। সংখ্যাটি প্রতিবছরই বাড়বে। ২০৫০ সালে দৈনিক ৬৭ হাজার যানবাহন চলবে পদ্মা সেতু দিয়ে।

পদ্মা সেতু চালুর পর ১৫ বছরের জন্য একটি টোল হারের তালিকা করেছে সেতু বিভাগ। তালিকা অনুসারে, ছোট ট্রাকের জন্য ১ হাজার ৬২০ টাকা টোল প্রস্তাব করা হয়েছে, মাঝারি ট্রাকের ২ হাজার ১০০ টাকা, বড় ট্রাকের ২ হাজার ৭৭৫ টাকা, চার এক্সেলের ট্রেইলারের ৪ হাজার টাকা এবং ট্রেইলারের ক্ষেত্রে চার এক্সেলের পর প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা টোল যোগ হবে।

পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, সহজ হবে মানুষের চলাচলও। বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলও হবে কয়েক গুণ বেশি। পদ্মা সেতু দিয়ে ২০২২ সালে যে ২৪ হাজার যানবাহন চলবে, তার মধ্যে বাস চলবে ৮ হাজার ২৩৮টি, ট্রাক ১০ হাজার ২৪৪টি, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে ৫ হাজারের বেশি। সমীক্ষায় আরও প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৮০০টি। ২০৩০ সালে হবে ৩৬ হাজার ৭৮৫। ২০৪০ সালে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ৫১ হাজার ৮০৭টি।

পদ্মা সেতু নির্মাণ করে লাভ কী হবে, তা নিয়ে ২০০৯ সালে আলাদা সমীক্ষা করে এডিবি ও জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এতে দেখা যায়, পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক প্রভাব বা ইকোনমিক রেট অব রিটার্ন (ইআরআর) দাঁড়াবে বছরে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ। পরবর্তী সময় সেটি আরও বাড়বে। এ নিয়ে সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার আগে সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ইআরআর হবে ১৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, সহজ হবে মানুষের চলাচলও।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত