প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুলকপির কেজি ৪ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট: খুলনার ডুমুরিয়ায় রবিশস্যের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। নামমাত্র দামে তারা নিজেদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করছেন। তবে ভোক্তারা সেই পণ্য কয়েকগুণ বেশি দামে কিনছেন।

ডুমুরিয়ার মালতিয়া গ্রামের চাষি আবদুল মজিদ আড়তে এসে হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন একই উপজেলার আরশনগর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ। তারা দুজনই ফুলকপি চাষি।

বুধবার মালতিয়া আড়তে তারা প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৪ টাকা দরে। সবজির রাজ্য ডুমুরিয়ায় এবার ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখেননি কৃষকরা।

মার্চে করোনার খবর প্রচারিত হওয়ার পর মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়শ, পেঁপে, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ফসলে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হন চাষিরা। শষা প্রতিকেজি বাকিতে বিক্রি করেন পাঁচ টাকা। কাঁচামরিচও পানির দামে বিক্রি হয়। এতে কৃষকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী এক ইঞ্চিও জমি খালি না রাখতে নির্দেশনা দেন। চাষে উৎসাহিত হতে খুলনার এক হাজার তিনশ কৃষক প্রণোদনাও পান। কিন্তু এরপরও খুলনা জেলার ৮০ হাজার কৃষক গ্রীষ্ম মৌসুমে সবজি বিক্রি করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সমিতিতে সুদ ও ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে তাদের।

ডুমুরিয়ার বরাতিয়া, গোবিন্দকাটি, ঠাকুন্দিয়া, খর্নিয়া, আরশনগরে শত-শত বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। নভেম্বরের প্রথম দিকে চাষিরা প্রতিকেজি ফুলকপি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য ছিল ৪০ টাকা। কিন্তু গতকাল কৈয়া বাজার, খর্নিয়া ও মালতিয়া আড়তে প্রতি কেজির মূল্য ছিল চার টাকা।

বরাতিয়া, চাকুন্দিয়া, রুস্তমপুর, আরশনগর ও মালতিয়ায় ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। গতবারের চেয়ে বেশি জমিতে উৎপাদন হয়েছে।

বরাতিয়া গ্রামের ললিত দাস জানান, এক বিঘা জমিতে ছয় হাজার আর দশ কাঠা জমিতে তিন হাজার ফুলকপির আবাদ করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশক ও দৈনিক শ্রমিকের ব্যয়সহ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। অক্টোবরের প্রথম দিকে ফুলকপির চারার গোড়ায় পচন ধরে। আবাদ রক্ষা করতে নানা উপকরণ ব্যবহার করতে হয়।

তিনি বলেন, সবজির আবাদ করতে মহাজনদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। জমিতে ফুলকপির বাম্পার ফলনও হয়েছে। আশা ছিল করোনার ধাক্কার লোকসান সামলে নিতে পারব। কিন্তু ফল হলো উল্টো। বুধবার সাড়ে চার মণ ফুলকপি বিক্রি করেছি। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম পাইনি।

আরশনগর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ আশা ও গ্রামীণ সমিতি থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। বুধবার তিনি মালতিয়া বাজারে ১০ মণ ফুলকপি বিক্রি করতে আসেন। প্রতি কেজির মূল্য চার টাকা দেখে হতাশ হন।

ফুলকপি চাষ করে গোবিন্দকাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, লিটন মোড়ল, আবু সাইদ, কানাই মল্লিক, রমেশ সরকারসহ অনেক কৃষকই লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। ডেইলি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত