প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এমন বিদায় চাইনি বন্ধু, এভাবে- এত আগে না গেলেও পারতে, আদিত্যের মৃত্যুতে জ. ই মামুন

মহসীন কবির: [২] মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে তিনি মারা যান।(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

[৩] তিনি খ্যাতনামা কবি হ‌ুমায়ূন কবিরের ছেলে। আদিত্য আজকের কাগজ ও ভোরের কাগজে সাংবাদিকতাও করেছেন । ১৫ বছর বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করছেন। সর্বশেষ তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকে অ্যাসোসিয়েট ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

[৪] ইতিমধ্যে আদিত্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অনেকেই বার্তা প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সিনিয়র সাংবাদিক জ.ই. মামুন লেখেন- আদিত্য কবির আমার বন্ধু, আমার সহকর্মী, আমার দুঃসময়ের সঙ্গী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমার গুরুও। ওর কাছ থেকে কতকিছু শিখেছি। আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে মেধাবী যে কজন ছেলে মেয়ে আমি চিনি, আদিত্য তাদের অন্যতম। তার মতো ভালো বাংলা এবং ইংরেজি লিখতেও দেখেছি কম মানুষকে। কমিউনিকেশন স্কিল ছিলো অসাধারণ।

আদিত্য একসময় সাংবাদিকতা করতো। গল্প লেখা শুরু করলো, তারপর চলে গেলো বিজ্ঞাপনের জগতে। এশিয়াটিকে কাজ করেছে অনেক বছর, কয়েক মাস আগে গেলো ক্যারোট কমিউনিকেশন নামের একটা প্রতিষ্ঠানে। সবশেষ কাল রাতে ঘুমের মধ্যে চলে গেলো অনন্তে। ৯০ সাল থেকে আদিত্য, যাকে ঘরে সেতু নামে ডাকতো সবাই, ওর ছোট ভাই অভীক, বোন খেয়া আর অপর্ণা- ওদের সাথে পরিবারের সদস্যদের মতো সময় কাটাতাম। খালাম্মা মানে ওর মা, যাকে সবাই রেবু আপা নামে চেনে, তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের হাউজ টিউটর। ওনার বাসাটাই তখন আমারও বাসা বলতে গেলে। কত দিন কত রাত্রি আমি আর আদিত্য পার করেছি একত্রে। কত বই, কবিতা, রাজনীতি, বিতর্ক! আহা সেই আদিত্য, আমার সেই বন্ধু সেতু আজ নেই! আদিত্য মারা গেছে কাল রাতে ঘুমের মধ্যে। করোনা না, সুস্থই ছিলো। হয়ত হার্ট এটাক, হয়ত স্ট্রোক! সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে গিয়ে ওকে মৃত পাওয়া যায়!
আদিত্যর বাবা কবি হুমায়ুন কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে খুব কম বয়সে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। সম্ভবত রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। তারপর থেকে রেবু আপা (খালাম্ম) একাই বড় করেছেন তার ছেলে মেয়েদের।
আহা রেবু আপাকে আজ কে কী সান্ত্বনা দেবে!!!

[৫] নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেইসবুকে লেখেন, “আমাদের বন্ধুদের মধ্যে অনেক বিষয়েই আগানো ছিল আদিত্য, যারে লোকে আদিত্য কবির নামে জানত! চলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেল ও-ই আগানো!”

[৬] শিক্ষক ও লেখক আজফার হোসেন লেখেন, “এই মাত্র খবর পেলাম, আমার এক সময়ের খুব কাছের মানুষ ও আমার প্রিয় মানুষ আদিত্য কবির–অসাধারণ মেধাবী কবি ও লেখক আদিত্য কবির–অল্প বয়সেই চলে গেল! ডেভাসটেটিং! গুছিয়ে যে কিছু বলব, সেটা সম্ভব হচ্ছে না এখন!”

[৭] সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহ লেখেন– আদিত্য দা( আদিত্য কবির ) এটা কি হলো? সেই ভোরের কাগজের কাল । সন্জীব দা, মুনীর রানা আপনি আমি আমাদের কতো গল্প। আপনার স্পোটর্স রিপোটিং । একসঙ্গে দুজনের মেলা পাতায় লেখা । প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ক্রোড়পত্র দুজনের ভরাট করে দেয়ার কথা। আপনি উধাও। রাতভর সন্জীব দা আর আমি সামাল দিলাম । আপনি উধাও হতেন, আর আমি আপনাকে খুঁজে বের করতাম । জোর করে নিয়ে এসেছিলাম সময় সংলাপে । কি তুমুল আড্ডা । ঈশ্বরের নাম বিজ্ঞাপন লেখার সময় ২০১৮র শেষ ভাগ পর্যন্ত নিয়মিত কতো কথা টেলিফোনে । আলী যাকের ভাইর সঙ্গে সময় সম্পাদকীয় করতে গিয়ে এশিয়াটিকের নিচে দেখা । সংক্ষিপ্ত আড্ডা। বলেছিলেন নীতি নৈতিতকতা ও জ্ঞান শূণ্য সমাজের কথা। গণমাধ্যমের মুর্খ্যতা এবং নষ্ট হয়ে যাবার কথা । সন্জীব দা, র মতো গণমাধ্যম আপনাকেও মূল্যায়ণ করতে পারেনি । আমরা যারা জানি আপনাকে, তারাতো নিশ্চিত করেই জানি গণমাধ্যমে আপনার মতো দ্বিতীয় প্রতিভা …। না , নেই। অভিমান করে ঘুমের মধ্যে একদম যেন টিলোএক্সপ্রেস খেলার মতো চলে গেলেন। ভালই করলেন হয়তো …নষ্টপুরে কেন জীবনের অপচয় !

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত