প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. সেলিম জাহান: ফাইজার ও বায়োএনটেক ভ্যাকসিন : দিগন্তে আশার আলো

ড. সেলিম জাহান: আর মাত্র ৭দিন বাকি। তারপরই শুরু হবে বৈশ্বিক একটি বিশাল ও ভয়ঙ্কর মানবঘাতী শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ের শুভ সূচনা। আগামী সপ্তাহ থেকেই ফাইজার ও বায়োএনটেক আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক টিকা দেওয়া শুরু হবে যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা টিকাটি অনুমোদন করেছেন। বিশে^ যুক্তরাজ্যই প্রথম দেশ যেখানে এই প্রতিষেধক প্রথম দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যে আসছে ৮ লাখ মাত্রা প্রতিষেধক। বছর শেষ হওয়ার আগেই আরও ১ কোটি মাত্রা। ধাপে ধাপে প্রতিষেধক টীকা দেওয়া হবে। প্রতিষেধক প্রাপ্তির প্রথম কাতারে থাকছেন কোভিড-১৯ এ কর্মরত চিকিৎসক, সেবিকা, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা, বয়োবৃদ্ধরা, যাদের কিছু মৌলিক স্বাস্থ্য সমস্যা আছে ইত্যাদি। সবাইকে দিতে দিতে হয়তো আগামী গ্রীষ্ম এসে যাবে। এ আনন্দের মুহূর্তে আমরা যাতে ভুলে না যাই, কোভিড-১৯ অতিমারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বে সাড়ে ১৪ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণহানি ঘটেছে ১৫ লক্ষ মানুষের।

সেই সব ঝরে যাওয়া প্রাণকে আজ বিনম্রচিত্তে স্মরণ করি। পরম কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি হাজার হাজার চিকিৎসক, সেবিকা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে যারা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধেসহ মানুষদের রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুর স্বীকার হয়েছেন। ভুলি কি করে সেসব চিকিৎসক, সেবিকা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে যারা এখনো অন্যদের বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত। বহু বিজ্ঞানীর দিন-রাত্রিব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রমে এ অসাধ্য সাধিত হয়েছে। তাদের প্রতি সমস্ত মানবজাতির অতল কৃতজ্ঞতা। ফাইজার ও বায়োনটেক আবিষ্কৃত এ প্রতিষেধকের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য একাধিক প্রতিষ্ঠানে এ জাতীয় প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে। যে অবিশ্বাস্য গতিতে এবং স্বল্পতম সময়ে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে, তা অভাবিত।

এই আনন্দের মুহূর্তে ক’টি সতর্ক বাণী। [১] প্রতিষেধক দেওয়া শুরু মানে অন্যান্য প্রতিরোধক ব্যবস্থা যেন আমরা বাদ না দেই। প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক ব্যবস্থা একে অন্যের পরিপূরক। [২] আমরা যেন প্রতিষেধক টীকা না নেওয়া থেকে বিরত না হই। জানি প্রতিষেধকের ব্যাপারে নানা গোষ্ঠী নানান ভয় দেখাবে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলা হবে। আমরা যাতে সে সব মিথ্যাচারে না টলে যাই। [৩] কোনো কেনো দেশ দাবি করছে যে, তারাও প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে। সে সব প্রক্রিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। সে সব থেকে আমরা যাতে দূরে থাকি। আজ সুরঙ্গের শেষে সত্যিই আলো দেখা যাচ্ছে। সমস্ত মানবজাতি উল্লাসিত এবং আশাবাদী। দিগন্তে আজ আশার সুবর্ণ রেখা। আগামী সপ্তাহে যখন মানুষেরা তাদের বাহুতে টীকা নেবে, তা শুধু একটি অতিমারির বিরুদ্ধে প্রতিষেধক নয়। তা আশার, আস্তার এবং একটি সুনন্দ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার টীকাও বটে। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত