প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: ২০-৩০ বছর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছিলো, এখন ১৩৪তম

কামরুল হাসান মামুন : আবার র‌্যাংকিং। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিউএস এবার এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এক র‌্যাকিং প্রকাশ করেছে। আবারও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পায়নি। এবার বাংলাদেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় এই র‌্যাংকিং স্থান পেয়েছে এবং এই ১১টির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও সেরা। মানে নিজ দেশে নিজেদের মধ্যে সেরা।

কিউএস এশিয়া র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৪তম। গতবার ছিল ১৩৫তম। এক এগোনো বা পেছানো আসলে কোনো ধর্তব্যের মধ্যে পরে না। কারণ এইটা প্লাস-মাইনাস এরর-এর মধ্যে পরে। সুতরাং অবস্থান ১ এগিয়েছে বলে খুশি হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। আর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বুয়েট। বুয়েটের অবস্থান ১৯৯ তম। বুয়েটের অবস্থান এর চেয়ে আরও অনেক ভালো আশা করেছিলাম। আর বাকি ৯টির অবস্থান লজ্জাজনক। তবে উল্লেখ করতেই হবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম অবস্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। তার মানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চিটাগং, শাহজালাল ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কিন্তু আমি নিশ্চিত আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এসব র‌্যাংকিং ফ্যাংকিংকে কোনো পাত্তা না দিয়ে যথারীতি আরও বীরদর্পে পিছিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা একটু বিশেষভাবে বলতে চাই। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবার তার জন্মের ১০০ বছর পূর্তি মহাধুমধামে উদযাপন করতে যাচ্ছে। খুবই কষ্ট লাগে যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি জন্ম হওয়াটা ছিলো একটি Big Bang এর মতো। জন্মের পরপরই অনেক সুনাম কুড়িয়েছিল।

ইউনিভার্স-এর জন্মের পর থেকে যেমন এক্সপ্যান্ড হতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও জন্মের পর থেকে এক্সপ্যান্ড হতে থাকে। কিন্তু এইটা খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। খুব দ্রুতই অর্থাৎ ১৯৪৬ থেকে এর অবস্থান নামতে থাকে আর সেই নামা কখনো থামেনি। এমন কোনো সরকার বা প্রশাসন আসেনি যারা এই নিম্নগামিতাকে থামিয়ে সুনাম যাতে বাড়ে সেই ব্যবস্থা করে। আর আরও কষ্টের বিষয় হলো স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সবচেয়ে বেশি গতিতে নষ্ট হয়েছে। ২০-৩০ বছর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছিলো। এটা লজ্জার। কিন্তু এই লজ্জার কথা কেউ বলে না। কারণ বললেই বুলবে বুলছে। তখনই ভালো করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ আসবে। এর চেয়ে বালুর ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে থাকাই ভালো। একটি সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কোনো কম্পোনেন্টই কি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে? সত্যিকারের কোনো পিএইচডি প্রোগ্রাম আছে?

সত্যিকারের বিশ্বমানের যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক আছে? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে কীভাবে বলা হয় যে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে? অথচ ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে ফরেন ফ্যাকাল্টি একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনডেক্স। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোস্ট-ডক আছে? কোনো পোস্ট-ডক ছাড়া এশিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কি এশিয়ার সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পেয়েছে? পাওয়া সম্ভব না। ছাত্রদের আবাসিক হলের ব্যবস্থা কি শিক্ষা বান্ধব? শ্রেণিকক্ষ কি মানসম্পন্ন? একেকটি সেক্টর ধরে ধরে বিচার করলে এমন একটি ক্ষেত্রও পাওয়া যাবে না যেটি মানসম্পন্ন এবং যেগুলো সময়ের সাথে আরো খারাপ হচ্ছে না।

আর ভালো হবে কীভাবে? ৩৫ হাজার ছাত্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট হলো ৮০০ কোটি টাকা। যেইসব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে আছে তাদের একটি বিভাগের বরাদ্দও ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এতো অল্প বরাদ্দ দিলেও আমাদের প্রশাসন আরো বেশি বরাদ্দের জন্য কোনো দাবি জানায় না। এ এক আশ্চর্যের বিষয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো এই বরাদ্দ পেয়েই তারা সরকারের গুনে মুগ্ধ।

সর্বাধিক পঠিত