প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল : ‘সহমত ভাই’ আর ‘পাশে আছি’ ভাই’র চুপচুপা তরলে তেলতেলা, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের চেয়ে সেসবের জোর বেশি!

অমি রহমান পিয়াল : আওয়ামী লীগের মূল সমস্যা এর রাজনৈতিক চর্চা। বুদ্ধিবৃত্তিক (পড়েন মেধাভিত্তিক) রাজনীতি থেকে সরে আসা এখন পুরোপুরি তেলবাজির রাজনীতিতে নিমগ্ন গোটা দল। ‘সহমত ভাই’ আর ‘পাশে আছি ভাইর চুপচুপা তরলে তেলতেলা, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের চেয়ে ওইগুলোর জোর বেশি। যার হাতে তেলের ভান্ড বড়, সে ততো বড় নেতা।

স্বাভাবিকভাবেই চোর বাটপার ডাকাতগুলো মুখে মধু অন্তরে বিষ নিয়ে উইঠা আসতেছে ওপরে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ গোটা জাতি দেখে জাতীয় সংসদে বক্তৃতায়। বরাদ্দ সময়ের ৯৯ভাগ সাংসদরা খরচ করেন তোষামুদি কথাবার্তায়, নেত্রীর প্রশংসায়। যে কারণে জনগণ তারে ভোট দিছে তা নিয়ে কোনো কথা নেই, এলাকার উন্নয়ন সমস্যা নিয়ে কোনো কথা নেই। আরে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত একজন নেত্রী, তার নতুন করে প্রশংসার দরকার নেই। বরং তোমার কাজটা তুমি ভালোভাবে করলে দলের প্রশংসা হবে, প্রশংসিত হবেন নেত্রী যে তিনি ঠিক লোকটারে ঠিক জায়গায় বসাইছেন। আমাদের সময় রাজনৈতিক পড়াশোনা জরুরি ছিলো। কারণ আমাদের অস্তিত্ব টিকানোর জন্যই লড়তে হইছে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে।

আমি ছাত্রলীগ করি, আওয়ামী লীগ করি, আমারে খালি স্লোগান মুখস্ত করলে হবে না। আমারে জানতে হবে দলের আদর্শ। আমারে জানতে হবে দলের নীতিমালা। আমারে জানতে হবে অন্য দলগুলোর আদর্শ, তাদের মেনিফেস্টো, তারা কী বিষয়ে কথা বলে, কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমাদের ঘায়েল করতে চায়। কথার জবাব হবে কথায়, লেখার জবাব লেখায়, মাইরের জবাব মাইরে। এইভাবেই এগিয়েছি আমরা। এখন ছাত্রলীগের কয়জন নেতা জানে ছাত্রলীগের অফিসিয়াল সঙ্গীত কোনটা, তার একটা লাইনও কী জানে তারা, গাইতে পারবে? আওয়ামী লীগের কোনো নেতারে জিঙ্গাসা করেন তো মুজিববাদ কী? কীসের ভিত্তিতে তিনি রাজনৈতিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগরে।

বাকশাল নিয়ে রিপোস্টের পর রিপোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছি, হাতে কলমে বয়ান দিয়েছি এইটা কী জিনিস। অথচ আওয়ামী লীগের এখন ওপর সারির এক নেতা আমাকে বলছিলেন এইটা বঙ্গবন্ধুর একটা ভুল সিদ্ধান্ত। তার ওপরের নেতাদের ব্যাগ বহন করে, বাজার করে দিয়ে নেতা হয়েছিলেন। এখন তার বাজার যারা করে দেয় তাদেরকে প্রমোট করেন। চলছে ভাই লোগের খেলা। ভাই টেন্ডারবাজি করেন, ভাইরে কোটি কোটি টাকা চান্দা দেয়, ভাইয়ের বিচি ম্যাসেজ করলে অনেক লাভ। তার জায়গায় আসতে পারলে ডাবল হবে ধান্দা, এইভাবে কতোদিন চলবে?

আওয়ামী লীগরে, ছাত্রলীগরে টিকতে হলে বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গাটায় জোর দিতে হবে। নেতৃত্বে আসতে হবে দলকে, দলের আদর্শরে, দলের নীতিরে হাতের রেখার মতো চেনা লোকজনরে। আগামী দিনের নেতৃত্বের কথা ভাবতে হবে। না হলে আজকে বিএনপির যে দশা, কয়েক বছর পর আওয়ামী লীগের সেই অবস্থা হলে এতোটুকু অবাক হব না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত