শিরোনাম
◈ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইন পাস, থাকছে আরও যেসব সুবিধা ◈ শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয় পঞ্চগড় থেকে এবার দেখা গেল এভারেস্ট ও মাকালু, ক্যামেরায় বিরল দৃশ্য ধারণ (ভিডিও) ◈ ভারতীয় ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার, পিছিয়ে বাংলাদেশ ◈ সাতক্ষীরায় লংমার্চফেরত জামায়াত-শিবিরের বাস খাদে, নিহত ১, আহত অন্তত ২০ ◈ খিলক্ষেতের বাড়িতে ডিজে পার্টির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির ◈ ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না: শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী ◈ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে এএসপি কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর ◈ যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ বেনাপোলে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড ◈ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ০৭:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ০৭:৪৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপক চৌধুরী: কর্নেল (অব.) শওকত আলী ও আমার রাজনৈতিক প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’

দীপক চৌধুরী: জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কর্নেল (অব.) শওকত আলী আমাদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার চিন্তা আর আদর্শের জন্যই তিনি চিরকাল আমাদের প্রাণের মধ্যে থাকবেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন। শওকত আলী শরীয়তপুর নড়িয়ার মানুষ আর আমি সুনামগঞ্জের। অথচ তাঁর যেন পুত্রস্নেহ ছিল আমার প্রতি। একটা সময় শওকত আলীর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই ফোনে মতবিনিময়, রাজনৈতিক কথাবার্তা হতো আমাদের। সাংবাদিক হিসেবে আমি আগ্রহী ছিলাম সবসময়।

আজকের কাগজ ও সাপ্তাহিক খবরের কাগজের কিছু কিছু রিপোর্টিং এবং গদ্য তাঁর কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিল। বিষয়গুলো শেয়ার করতে তিনি কিছু পরামর্শ আর অভিজ্ঞতা জানাতেন। প্রকাশিত কয়েকটি প্রবন্ধের জের ধরে ১৯৯২-এর দিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী আমার প্রতি এতোটাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন যে, তাঁর চামণ্ডাদের নির্দেশ দেন, ‘যেখানে ওরে পাইবা সেইখানেই তাকে গাড়ি চাপা দেবা। এরপর সড়ক দুর্ঘটনা প্রচার করা হবে।’ বিষয়টি আমি জানালাম ও পরামর্শ চাইলাম শওকত আলীর কাছে।

‘সাংবাদিকতা করা যতই কঠিন করে তোলা হোক না কেন তাতে সত্যের জয় হবেই-’ এ পরামর্শ দিয়ে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায়’ তাঁর আসামি হওয়ার কাহিনী শোনালেন। এবং এটা বোঝালেন এভাবে যে, বাধাগ্রস্ত হলে অপ্রতিরোধ্য শক্তি তৈরি হয়। তোমার ক্ষেত্রেও তা হবে। তবে, অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে। হয়তো তিনি ( আব্দুল মতিন চৌধুরী) তোমাকে কোনোভাবেই কাবু করতে না পেরে ‘ভয় দেখাতে’ চাইছেন। আমি জানিনা, অনুমান করে বলছি। এই বলে কী তুমি থেমে যাবে?’
এরপরই একদিন তিনি আমার প্রবন্ধ-নিবন্ধ আর কলামের কয়েকটি ‘পার্ট’ দেখে বললেন, ‘অধিকাংশ লেখা তো নেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরেই। সুতরাং এগুলো কোম্পাইল করে গ্রন্থ বানিয়ে ফেলো।’ শুধু তাই নয়, আমি অপ্রস্তুত এটা বোঝাবার চেষ্টা করে বললাম, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর বই লেখা কী সহজ?’ মৃদু হেসে বললেন, ‘দমে গেলেই শেষ হয়ে যাবে।’ এমন কী তৎকালীন অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে পাণ্ডুলিপিখানা দেখাবার পরামর্শ দিয়ে বললেন, চমৎকার লিখেছো কয়েকটি ইস্যু। সত্যিই, তাঁর পরামর্শেই সেদিন আমি ভীষণ উৎসাহিত হই। অবশ্য বইটি পরের বছর ‘একুশে বই মেলায়’ প্রকাশ করেছিল বাংলাবাজারের মম প্রকাশ। নাম, “স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই : বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।”

১৯৬৯ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শোসকগোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শওকত আলীকে ২৬ নম্বর আসামী করা হয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তিনি কারাবাস করেছেন।
শওকত আলী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে যান। এরপর তিনি শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া) আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

  • সর্বশেষ