প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বকৃত নোমান: হিংসা দিয়ে কখনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায় না

স্বকৃত নোমান: ধর্ম যতো বেশি কঠোরতা প্রদর্শন করবে, ধর্মহীনতা ততো বেশি উৎকর্ষ লাভ করবে। প্রকৃতির পঞ্চভূতে সৃষ্ট মানুষের মধ্যে এমন এক বোধ রয়েছে, যার নাম বিবেক। বিবেক মানুষের এক শক্তিশালী বোধের নাম। সে কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে থাকে, সে সর্বংসহার মতো সইতে থাকে। কিন্তু একটা সময়, যখন সহ্যের সকল সীমা অতিক্রান্ত হয়, তখন সে জেগে ওঠে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এটা ইতিহাসেরও নিয়ম। বর্তমান বিশে^ যেসব দেশে ধর্মহীনরা সংখ্যাগুরু, ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, সেসব দেশে ধর্মের কঠোরতা এবং ধর্মের নামে অরাজকতা ছিল বেশি।
ধর্ম অবমাননার নামে লালমনিরহাটে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হিংসাত্মকভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিবেক জাগবেই। হিংসার সামনে দাঁড়িয়ে বিবেক প্রশ্ন করবে, ‘ধর্ম এতো নির্মম, এতো নিষ্ঠুর, এতো ভয়ংকর, যে কিনা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে?’ বিবেকের প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাবে না মানুষটি। পরিণামে তার ভেতর তৈরি হবে ধর্মের প্রতি অনাস্থা।

হিংসা দিয়ে কখনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অতীতে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। ইসলামি শাস্ত্রে উল্লেখ, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ (সহিহ বোখারি : ৩১৬৬)। এবং ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (সুনানে নাসায়ী : ৪৭৪৭)।

শহিদুন্নবী জুয়েল তো মুসলমান। অমুসলিম তো নয়। ইসলামি শাস্ত্র যেখানে অমুসলিমদের অন্যায়ভাবে হত্যা করলে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাওয়া যাবে না বলছে, জান্নাত হারাম বলছে, সেখানে একজন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যার শাস্তি কী হতে পারে, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ধর্ম অবমাননা তো শহিদুন্নবী জুয়েল করেনি, বস্তুত যারা তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে তারাই করেছে। তারা ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করেছে। তারা বুঝতে পারছে না, কোরানের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য কোরান। মসজিদের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য মসজিদ। বেহেশতের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য বেহেশত।

কথা ছিল ধর্ম মানে হবে শান্তি। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। পৃথিবীতে ধর্মই বড় বড় সব অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়াচ্ছে। ইসলামকে এমন এক কঠোর ও স্পর্শকাতর ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যাকে ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, যাকে নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না। এই যদি হয় পরিস্থিতি, তাহলে এই অস্পৃশ্য পাষাণকে মানুষ একটা সময় পরিত্যাগ করতে বাধ্য হবে। এর থেকে যোজন যোজন দূরে থাকাটাই কল্যাণ মনে করবে। ধর্মান্ধরা বুঝতে পারছে না, তাদের কঠোরতার কারণে যে ধর্মহীনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তারা জানে না, মুদ্রার যে উল্টো একটা পিঠ আছে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত