প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী “মহানবীর মুচকি হাসি”

আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব: [২] তিনি ছিলেন মানবজাতির অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মহান উদার, বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তিত্ব। উত্তম চরিত্র ও মহানুভবতার একমাত্র আধার দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নবী করিম (সা.) ছিলেন একাধারে সমাজসংস্কারক, ন্যায়বিচারক, সাহসী যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক, যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক এবং সফল ইসলাম ধর্মের প্রচারক। এই শ্রেষ্ঠ মানুষটির জন্ম আজকের এই দিনে।

[৩] ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ হিজরী মাসের ১২ রবিউল আওয়াল তিনি ত্রি-ভুবনে মানুষের মুক্তির দুত হিসেবে জন্ম গ্রহন করেন। আমরা তার উম্মত। মহানবীকে অনুসরণ করা আমাদের জন্য সুন্নত। মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কুরআন হাদিস থেকে অসংখ্য গল্প আমরা পড়েছি এবং শুনেছি। আজকের লেখাটি “মহানবীর মুচকি হাসি” বিষয়ে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সর্বদা হাসিমুখে থাকতেন। তাকে কখনোই কেউ অকারণে মুখ গোমড়া করে থাকতে দেখেননি।

[৪] একজন মুসলিম হিসেবে অন্য ভাইয়ের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কেমন হওয়া উচিত, তা প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। পাশাপাশি অপর ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তবে প্রিয় রাসূল (সাঃ) সব সময় মুচকি হাসি দিতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘নেক কাজের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ মনে করো না, যদি তা (নেক কাজ) তোমার নিজের ভাইয়ের সঙ্গে মুচকি হাসির মাধ্যমে সাক্ষাৎ করার দ্বারাও হয়।’ (মুসলিম)।

[৫] হাদিসে এসেছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস বর্ণনা করেন, আমি রাসূল এর চেয়ে অধিক মুচকি হাসি দেয়া ব্যক্তি অন্য কাউকে দেখিনি।’ (মুসনাদে আহমদ) হজরত জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন তখন তিনি মুচকি হাসতেন। (বুখারি, হাদিস)। মুচকি হাসা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত।

[৬] কিন্তু অট্টহাসি কোনো মুসলমানের মুখে শোভা পায় না। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি নামাজ অবস্থায় অট্টহাসি দিলে তার অজুও নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে হাসি একটি ইবাদতও। হাসি যদি সুন্নত তরিকায় হয় তাহলে তা অবশ্য ইবাদতে গণ্য হবে। সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে মুচকি হাসির মাধ্যমে অভিনন্দন ও অভিবাদন করা। খোঁজ খবর নেয়া। আর সামান্য এ কাজের মাধ্যমে লাভ করবে সাওয়াব। মন হবে প্রফুল্য।

[৭] শরীরের অঙ্গগুলো থাকবে সতেজ ও সুস্থ। আল্লাহ তা-আলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি (সাঃ) এর নসিহত অনুযায়ী পারস্পরিক প্রতিটি কাজ-কর্মে এবং সৌজন্যতা প্রকাশে মুচকি হাসির প্রচলন করার তাওফিক দান করুন। সেই সাথে শারীরিক ও মানসিক উপকারের পাশাপাশি সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বাধিক পঠিত