প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলায় আরডিসিসহ আহত ৫

ডেস্ক রিপোর্ট: শিবচরে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা চালিয়েছে এক দল জেলে ও দুর্বৃত্তরা। এসময় শিবচর থানার ৪ পুলিশসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরডিসি আহত হয়েছেন। ডিবিসি নিউজ

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাবিবুর রহমান ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরডিসি মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে চলমান অভিযানে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শিবচর উপজেলার মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে পদ্মা নদীর শিবচর উপজেলা চরজানাজাত এলাকায় নদীতে একদল জেলে জাল ফেলে মা ইলিশ ধরার চেষ্টাকালে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম সামসুজ্জামান ও শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশের একটি টিমের উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে একদল জেলে ও স্থানীয়রা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা নৌকায় থাকা রামদা, সেনসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ আরডিসি মাহবুবুল হক আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। এ সময় ১৪ জন জেলেকে মাছ ধরার অভিযোগে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে অভিযানিক দল সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়।

শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম সামসুজ্জামান বলেন, দুপুর ১টার দিকে পদ্মানদীর শিবচর উপজেলা চরজানাজাত নদীতে একদল জেলে জাল ফেলে মা ইলিশ ধরার চেষ্টা করছে এমন খবর পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি মাটির খন্ড আরডিসি মাহবুবুল হকের মাথায় এসে পড়লে তিনি আহত হয়। এছাড়াও অভিযানে অংশ নেয়া চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।

সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্ব মাদারীপুর সদর ও শিবচর থানা পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য একযোগে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রাকিবুল হাসান ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকার পরেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না মাছ ধরা। রাতের আধাঁরে শিবচরের পদ্মার নদীর তীরবর্তী চরজানাজাত, কাঠাঁলবাড়ি, মাদবরেরচর, বন্দোরখোলা ইউনিয়নের প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাছ। কোনো কোনো চরাঞ্চলে হাট বসিয়ে মাছ বিক্রি করছেন জেলারা। এসব এলাকায় দূর-দুরান্ত থেকে ক্রেতারা অল্প দামে মাছ ক্রয় করছেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় দেড় শতাধিক জেলেকে মা ইলিশ ধরার অভিযোগে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত