প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইদুল ইসলাম: বিচার নাকি গ্রেপ্তার; কোনটা চাই আমার

সাইদুল ইসলাম, লন্ডন প্রতিনিধি: আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে যে, এরা কি বিচার চায়? নাকি গ্রেপ্তার? দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার সবারই আছে। একজন ব্যক্তি কোন কারণে সংক্ষুব্ধ হলে বা কোন কারণে তার সাথে বেআইনি কিছু ঘটলে স্বভাবত কারণে সে আইনের আশ্রয় নিতেই পারে। আইন আদালতের কাছে বিচার চাইতেই পারে কিন্তু বিচারের আগে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে জেলে পুরা তার মুখ্য উদ্দেশ্য হয়, তবে বলতেই হবে এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যে কোনো নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আমার অবস্থান। আর সেটা যদি নারী নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা হয়, তবে সহমর্মিতা একটু বেশিই থাকবে। কিন্তু ধর্ষণের মতো খুবই স্পর্শকাতর ও জগন্য অপরাধকে কেউ যদি আবার ভিন্ন উদ্দেশ্যে এবং হয়রানির জন্য ব্যবহার করে তখন অভিযোগকারী ব্যাক্তি ধর্ষণের চেয়েও জগন্য অপরাধী বলে আমি মনে করি।

ঢাকায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ও ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর ও তার ৫ সহযোদ্ধার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন ছাত্রী লালবাগ থানায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহবায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছেন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগে নাজমুল হাসান সোহাগ নামে আরেক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন। এর পরের দিন সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ এনে ভিপি নূরুল হক নূরকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন। উপরের প্রথম দুটি মামলার এজহার মোতাবেক ভিপি নূরকে তাঁর সহযোদ্ধাদের উপর বাদীর আনিত ধর্ষণের অভিযোগে বিচার না করায় আসামি করা হয়েছে। উপরের ১ম ও ২য় মামলা দুটির ঘটনার তারিখ যথাক্রমে এ বছরের জানুয়ারী মাসের ৩ তারিখ ও ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ তারিখ বলে উল্লেখ করেছেন বাদী। আর মামলাগুলো করেছেন সেপ্টেম্বরে ২০ ও ২১ তারিখ।

মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীটের একজন মেধাবী ছাত্রী বলেই মনে করছি। মামলার এজহার মোতাবেক তিনি যদি ধর্ষিত হয়েই থাকেন তাহলে দীর্ঘ নয় মাস পরে আইনের আশ্রয় নিতে গেলেন কেন? এই নয় মাসে কি তিনি মনে করেননি যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন এবং তার আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত। এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সুতরাং ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্রয় নেননি কেন? উল্টো এজহার মতে তিনি ঢাকসু ভিপির কাছে বিচার চাইতে গেছেন এবং ঢাকসু ভিপি নূরুল হক নূর বিচার না করায় তিনি নূরকেও আসামি বানিয়ে দিলেন। ফৌজদারি অপরাধের মতো একটি ঘটনায় দেশের আইন আদালত থাকতে ডাকসু ভিপি কিভাবে বিচার করতে পারেন?

নয় মাস পরে হলেও মামলা করেছেন ভালো কথা। এখন আইন আদালত আছে। নিশ্চয়ই আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। কিন্তু না, এই অভিযোগকারী আদালতে আরেকটি মামলা করেছেন এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার চেয়ে। তাতেও তিনি ক্ষান্ত হননি। মামলার আসাসিদের গ্রেপ্তার না করলে তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে অনশনে বসেছেন। অতি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত ধর্ষণের ঘটনায় যেখানে সরাসরি সরকারদলীয় লোকজন অভিযুক্ত, সেই ঘটনাগুলোকে ধামাচাপা দিতে সরকারি প্রোপাগান্ডায় কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী টাইপের লোক ভিপি নূরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারাও বিচার না চেয়ে ভিপি নূরের গ্রেফতার চায়।

তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, অভিযোগ কারী ছাত্রী আসলেই কি বিচার চায়, না আসামিদের গ্রেফতার চায়। গ্রেপ্তারই যদি হয় তার মুখ্য উদ্দেশ্য হয়, তবে আমি বলবো অভিযোগকারী ব্যক্তি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের খপ্পরে পড়ে আইন আদালতের প্রতি আস্থা না রেখে ভয়ংকর এক খেলায় মেতেছেন। এই খেলা তিনি উদীয়মান তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদদের চরিত্র নিয়ে খেলছেন। একটি দুষ্ট চক্রের প্ররোচণায় তিনি, দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে যারা জীবন বাজী রেখে কাজ করছেন, তাদের পথরোধ করার হীন চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা, ঐ দুষ্ট চক্র তাকে শুধুমাত্র ট্রামকার্ড হিসেবে সময়ের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। সময় ফুরিয়ে গেলে এরা আপনাকেও ছুড়ে ফেলে দিবে, যেভাবে দিয়েছিল ইমরান এইচ সরকারকে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত