প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এক যুবক রিমান্ডে

তৌহিদুর রহমান : [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বখাটে কর্তৃক প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ছবি ধারণের পর সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে গৃহবধূ ও তার পরিবার। শালিসের মাধ্যমে এ ঘটনার মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে গৃহবধূ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

[৩] ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বখাটে জুয়েলকে আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ । ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০ নং রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের

[৪] প্রবাসী মোঃ হামিদ মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তার। চলতি বছরের ৩০ আগষ্ট রাতে প্রতিবেশী জুয়েল নতুন ব্যবসার কথা বলে রাতে ৩ সন্তানের জননী গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের কৌশলে মিষ্টির সাথে চেতনা নাশক খাওয়ান। মিষ্টি খাওয়ার পর নেশাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। অস্বাভাবিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে বখাটে জুয়েল গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ধারণ করে । নির্যাতিত গৃহবধূ জানান, জুয়েল এসব ছবি দিয়ে ওই গৃহবধূকে হুমকী দিয়ে আসছিল। পরে জুয়েল ছবি গুলোকে পুঁজি করে কয়েক দফায় টাকা দেন। পরবর্তীতে গৃহবধূর কাছে আরো টাকা দাবী বরলে টাকা দিতে না পারায় সে ছবিগুলো সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়।

[৫] বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলে গ্রাম্য শালিসে জুয়েলকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য্য করা হয়। কিন্তু শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জুয়েল ওই গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। নির্যাতিত গৃহবধূর থানায় করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় জুয়েল ১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত জুয়েলের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

[৬] এদিকে ঘটনার পর থেকে গৃহবধূ তার সন্তানদের নিয়ে সামাজিকভাবে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। এদিকে অভিযুক্ত জুয়েলের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় তার পরিবার বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। এসময় তার স্বাজনরা সাংবাদিকদের দেখে ক্ষেপে উঠে। এ বিষয়ে রামরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদত খান বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সালিশকারকদের দেয়া সিদ্ধান্ত এলাকার শান্তির স্বার্থে মেনে নিলেও এটি ঠিক হয়নি বলে আমি মনে করছি। সবার মত আমিও এ ঘটনার বিচার চাই ।

[৭] ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধর্মজিৎ সিংহ জানান, সে কেন এ কাজ করলো তা জানতে বিজ্ঞ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে । তার সাথে কারা কারা জড়িত ও সহযোগিতা করেছে তা সনাক্তের চেষ্টা চলছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত