প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা: এই মুহূর্তে প্রধান দাবিটা যদি ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড না হয়, তাহলে কী হওয়া উচিত?

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা : ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত কিনা, সেটা নিয়ে বিতর্ক করার সময় এখন না। বিতর্ক যে হচ্ছে, সেটা ক্ষতিকর। সুতরাং আমার মতে বিতর্ক না করে বাস্তবতার প্রয়োজনে ছাড় দিয়ে দিন। মানেটা হচ্ছে, আপনি যদি মনে করেন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, তাহলেও এই মুহূর্তে বৃহত্তর স্বার্থে আপোষ করুন। আমি নিজে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী না, কিন্তু আমিও এই মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজন নেই, টাইপের সুশীলীয় দাবির সাথে আপোস করতে রাজি আছি। কেন? কারণটা রাজনৈতিক বাস্তবতা। আবেগটাকে দূরে রেখে আপনি যদি চিন্তা করেন বাস্তবে কোনো দাবি করলে ফলাফল কী হবে, তাহলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। খেয়াল করুন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কারা চাইছে। আমজনতা, হুজুররা, এবং খুবই ইন্টারেস্টিংলি, বামরাও। ফলাফলটা কী হবে। সরকার আইন পরিবর্তন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বানিয়ে দিবে, এরপর সবাই খুশি হয়ে ঘরে ফিরে যাবে। কারণ এটাই প্রধান দাবি, এটা আদায় হয়ে যাওয়ার পর আর কিছু চাওয়ার থাকে না।
কিন্তু বাস্তবে যেই লাউ সেই কদুই থেকে যাবে। কারণ এখন পর্যন্ত সমস্যাটা আইনের না, আইনের প্রয়োগের। প্রচলিত আইনে ধর্ষকের এখনই যে শাস্তি আছে, সেটাই তো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই হোক, পাথর মেরে হত্যাই হোক, আর লিঙ্গ কেটে হাতে ধরিয়ে দেওয়াই হোক, পার্থক্যটা কোথায়। ইনডেমনিটি আগের মতোই রয়ে যাবে। সেজন্যই প্রথম ধাপ হচ্ছে, যে আইন আছে, সেটাই সরকারকে মানতে বাধ্য করা। অথবা অ্যাটলিস্ট যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করা, যেন অন্তত মাঝে মাঝে মানতে বাধ্য হয়। এরপর ধীরে ধীরে আইন মানার সংস্কৃতি চালু হওয়ার পরেও যখন দেখা যাবে লাভ হচ্ছে না, তখন আপনি চাইলে পরের স্টেজে যেতে পারবেন। সুতরাং এই মুহূর্তে প্রধান দাবিটা যদি ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড না হয়, তাহলে কী হওয়া উচিত। পার্সোনালি আমার কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটা পছন্দ হয়েছে। এটা সবদিক থেকে অর্থবহ। আইন যতোটুকুু আছে, সেটুকুও যে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ধর্ষকরা যে মুক্ত অবস্থায় ঘুরতে পারছে, তার দায়টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরেই বর্তায়। এই দাবি যদি সরকারকে মেনে নিতে বাধ্য করা যায়, সেটা একটা মাইলফলক অর্জন হবে।

মনে করে দেখুন, এতো বড় সড়ক আন্দোলনের পরেও কিন্তু শাহজাহান খানকে পদত্যাগ করানো যায়নি। কারণ আইন পরিবর্তন সরকারের জন্য দুই মিনিটের ব্যাপার, সেটা আই ওয়াশেরও একটা পথ। কিন্তু জনগণের দাবির মুখে মন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারের জন্য বিশাল পরাজয়। ওটাই সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। ওটাই সরকারকে অ্যাকাউন্ট্যাবল করার একটা প্রক্রিয়া, যেই অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটির অভাবেই দেশে এতো নৈরাজ্য, এতো অপরাধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কী লাভ, দরকার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। এইসব ইউটোপিয়ান কথাবার্তা ইগনর করুন। আর ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত কিনা, এ সংক্রান্ত ধর্মীয় এবং দার্শনিক আলোচনাও বাদ রাখুন। সেগুলো সুস্থ সময়ের আলোচনা। এই মুহূর্তে দেখুন কোনটা বাস্তবায়িত হলে ফলাফল কী হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত