প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রহমান বর্ণিল: আশ্চর্য হই, একজন ধর্ষিতা নারীকে পর্যন্ত আপনারা পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছেন

রহমান বর্ণিল: পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনের জন্য প্রজন্মের পথভ্রষ্ট একটা অংশ সব সময় ছুতো খুঁজতে থাকে। অনুরূপভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করার জন্যও তারা মুখিয়ে থাকে সব সময়। অজুহাত পেলেই সেটা প্রকাশ করে। দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে আপনি সরকার পতনের দাবি করতেই পারেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেই অধিকার হয়তো আপনার আছে। তাই ধর্ষিতা নারীর অবশিষ্ট স্মভ্রমকে নিলামে বিকিয়ে আপনি সরকার পতন করতে চান। বেশ ভালো কথা, করুন। ধর্ষকরা নারীদের সাথে জবরদস্তি করে নিজেদের বিকৃত যৌন লালসা মেটায়। আপনিও সেই ধর্ষকদের ধর্ষণকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে আপনার রাজনীতিক লালসা লুটতে রাস্তায় নেমেছেন। এসব নিয়ে আমরা কিছু বলবো না। কারণ ধর্ষক আর আপনার মধ্যে নীতিগত কোন পার্থক্য নেই। তাই আপনাদের সাথে আর যাইহোক নীতিকথা চলে না। কিন্তু ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে মুজিবকোট পুড়িয়ে আপনারা যে নিজেদের আসল পরিচয় প্রকাশ করে দিচ্ছেন, সেই হুঁশ কি আপনাদের আছে?

এতোটা নির্বোধ হলে চলবে কীভাবে। ফেনীর মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজুদ্দৌলা জোব্বা পরে ছাত্রী নিপীড়ন এবং হত্যা করলে আপনি কিন্তু জোব্বা পোড়াননি। মাদ্রাসার শিক্ষকরা পাঞ্জাবি-টুপি পরে বলাৎকার করলে আপনি কিন্তু পাঞ্জাবি-টুপি পোড়ান না। কিন্তু আপনি মুজিবকোট পোড়ান। কারণ মুজিব কোটের সাথে আপনার শত্রুতা সাম্প্রতিক নয়, সুদীর্ঘ কালের এবং পৈতৃকসূত্রে পাওয়া। আপনার ক্ষোভ ধর্ষকের ওপর নয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়াটা উপলক্ষ্য মাত্র। আপনার ক্রোধ শেখ মুজিবের ওপর। মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর, একাত্তর এবং স্বাধীনতার ওপর। মুজিব কোটের ছ’টি বোতাম বাঙালির ঐতিহাসিক দাবি ৬৬’র ছয়দফার প্রতীক। যে ছয়দফা পরবর্তী সময়ে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম এবং তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা পর্যন্ত এনে দিয়েছিল। সুতরাং যে মুজিব কোট পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করার নিদর্শন বহন করে, সেই মুজিব কোটের সাথে আপনার প্রাগৈতিহাসিক শত্রুতা থাকতে দেখে আমরা মোটেও আশ্চর্য হই না। আমরা আশ্চর্য হই একজন ধর্ষিতা নারীকে পর্যন্ত আপনারা পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছেন দেখে। ঈষৎ সংক্ষেপিতফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত