প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: রাষ্ট্র ও রাজনীতিবিদরা চাইলেই এসিডের মতোই ধর্ষকদেরও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

শরিফুল হাসান: কোনোভাবেই ক্রসফায়ার নয়। দেশে আর একটাও ক্রসফায়ার চাই না। যা কিছু হবে সেটা হতে হবে বিচারের মধ্যে দিয়ে। কারণ অন্যায় দিয়ে কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কেউ কেউ বলতে পারেন বিচারে তো দীর্ঘসূত্রতা লাগে। হ্যাঁ, সেই আলাপ হতে পারে। ধর্ষণের যেকোনো ঘটনা কী করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার করা যায়, তা নিয়ে কথা বলা যেতেই পারে।

আমি শুধু আপনাদের মনে করিয়ে দিই, এদেশে বিচার বিভাগের বাজেট বিটিভির বাজেটের চেয়েও কম। বোঝেন তাহলে দেশের বিচার বিভাগের কী হাল! খোঁজ নেন তো গত ৫০ বছরে এই দেশে কয়টা আদালত নতুন করে প্রতিষ্ঠা হয়েছে? এমনকি বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার পরেও কতোজন বিচারক নিয়োগ পেয়েছে খোঁজ নেন? পুলিশ এতোদিন কী করলো সেই কথা বলবেন? হ্যাঁ, পুলিশকে গালি দেবেন। দেয়াই যায়। খোঁজ নেন তো এই দেশের পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছি কী না আমরা? একটা দেশের পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে লাগাতে লাগাতে আমরা তাদের মূল কাজকেই বাঁধাগ্রস্ত করে ফেলেছি।

গত ৫০ বছর ধরে এই দেশের পুলিশকে সত্যিকারের অপরাধীদের ধরার চেয়েও বেশি কাজে লাগিয়েছি আমরা কে কোথায় সরকারের বিরুদ্ধে কী বললো, সেসব দিকে। শুধু কী পুলিশ আমাদের প্রশাসনযন্ত্রের দিকে তাকান। একই চিত্র পাবেন। ঘুরেফিরে একটা কথাই বলি, যতোদিন না আমাদের নীতি-নির্ধারক মানে রাজনীতিবিদরা ধর্ষন নির্মূল চাইবেন ততোদিন পর্যন্ত কাজটা কঠিন। কাল রাষ্ট্র ও রাজনীতিবিদরা চাইলেই এসিডের মতোই ধর্ষকদেরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরেকটা কথা বলি জনগনের জন্য। একটা দেশ, একটা রাষ্ট্র কখনো অসৎ মানুষদের তাণ্ডবে ধ্বংস হয় না, ধ্বংস হয় সাধারণ মানুষের নিরবতার জন্য। আমরা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছি। চারপাশে আপনি প্রচুর পুরুষ পাবেন যারা ইনিয়ে বিনিয়ে ধর্ষণকে সমর্থন করবেন।
আমি শুধু আমার বীরপুরুষ ভাইদের বলবো, এই দেশের নারীরা কেমন আছে সেটা আপনার বোনকে জিজ্ঞাসা করুন। আপনার কন্যাকে জিজ্ঞাসা করুন। আপনার কোন বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন বলেছেন পাহাড়ে ওঠার চেয়ে ঢাকার রাস্তায় একটা মেয়ের জন্য হাঁটা অনেক কঠিন। ভীষণ সত্য কথা। কাজেই চলুন আর কারও জন্য না হোক নিজের কন্যা-বোন বা বন্ধুটির জন্য হলেও ধর্ষণকে সমর্থন না করি। নিজেরা ধর্ষক না হই।

আমি জানি এসব কথা শোনার কেউ নেই। মাঝে মধ্যে মনে হয় পুরো এই রাষ্ট্রই বিবস্ত্র। কী হবে এসব বলে? ভীষণ যন্ত্রণা লাগে। তারপরেও বলি অন্যায় দিয়ে কখনো ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কাজেই আমি কোন ক্রসফায়ার চাই না। আমি চাই বিচার। তবে সেই বিচারে যেন দীর্ঘসূত্রতা না থাকে। সেই বিচারে অপরাধীরা যেন পার না পেয়ে যায়। আরেকটা কথা, একটা দেশে সুশাসন বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলো দিনশেষে সব অর্জন বৃথা। মনে রাখবেন শুধু টাকা, উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে যদি সভ্যতা গড়া যেতো তাহলে আরব দেশগুলো হতো আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে সভ্য দেশ।

মনে রাখবেন, সুশাসন ছিল না বলেই লিবিয়া বা ইরাক ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই নীতি নির্ধারকদের বলবো, শুধু ক্ষমতা আর উন্নয়নের বুলি না আওড়ে প্লিজ দেশটাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন। আপনার জন্য, আমার জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য। আপনাদের দোহাই লাগে নিজেদের বোধগুলো ফেরান। দোহাই লাগে! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত