প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা প্রকল্পের সংশোধনীসহ একনেকে ১,৬৫৯ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

সাইদ রিপন: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রোহিঙ্গা প্রকল্পের সংশোধনী একনেকে ৪ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা ১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭৪০ কোটি১৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৯১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) শামীমা নার্গীস উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তারা ফিরে গিয়ে এই অনুদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে রোহিঙ্গারা আসার পর স্থানীয় জনগণের অনেক অসুবিধা হয়েছে। তাই এ প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

‘জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি-সেক্টর’ প্রকল্পের কার্যক্রম দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পটির অনুদান, মেয়াদ ও কর্মক্ষেত্র বাড়ছে। এ জন্য প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী করা হয়েছে। সেখানে প্রকল্পটির ব্যয় ৯৩০ কোটি টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়াদও ২ বছর ৭ মাস (৩১ মাস) বৃদ্ধি হয়েছে প্রকল্পটির। এর পাশাপাশি সংশোধনী প্রস্তাবনায় প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, কালভার্ট, মাল্টিপারপাস কমিউনিটি সেন্টার, সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতকরণ, এফএসসিডি’র বিদ্যমান ফেসিলিটি উন্নয়ন, অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রপাতি, পরিচালন ও মিনি পাইপে পানি সরবরাহ, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিউনিটি ল্যাট্রিন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বায়োগ্যাস ল্যাট্রিন, ওয়াটার অপশন স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণসহ পয়ঃনিস্কাশন ও কঠিন ময়লা নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন। এছাড়া বিদ্যমান টয়লেট সংস্কারসহ বাসা-বাড়িতে বায়োফিল টয়লেট স্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। এছাড়া অগ্নি দুঘর্টনায় ক্ষয়ক্ষতি কমবে।

এর আগে প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২১ সালে বাস্তবায়নের লক্ষে চলমান রয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ বেড়ে জুন ২০২৪ সালে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের কল্যাণে বিশ্বব্যাংক অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার এবং কেএফডব্লিউ ৭০ লাখ ইউরো অতিরিক্ত অনুদান সহায়তা দিয়েছে। ফলে কক্সবাজার জেলার সকল উপজেলায় সুষম উন্নয়নের জন্য প্রকল্প এলাকা দুটি উপজেলা থেকে বাড়িয়ে আটটি উপজেলা করা হয়েছে। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারের নতুন ছয়টিসহ মোট আটটি উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া এবং কাজের পরিমাণ বাড়ানো হবে। ২০১৯ সালের রেট সিডিউল কার্যকর হওয়ায় সে অনুযায়ী প্রকল্পের অবশিষ্ট পূর্ত কাজের ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনজনিত কারণে আরপিএ অংশে সমন্বয় ও প্রকল্পের কার্যপরিধি বাড়ানো হবে।

একনেক অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে : জাতীয় কবি কাজী নজরুর ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় এলাকার পোল্ডার নং ৬২, পোল্ডার নং ৬৩/১ এ, পোল্ডার নং ৬৩/১বি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত