প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাজি হানিয়ুম মারিয়াম: মিন্নির আড়ালে তিন্নি!

কাজি হানিয়ুম মারিয়াম: মিন্নির জবানবন্দী এবং তার স্বামীকে বাঁচানোর অভিনয়ে সবাই আমরা হতভম্ব। এই অভিনয়ের জন্য হলেও তার কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত। সবাই যখন মিন্নির কৃতকর্ম নিয়ে বিস্মিত, তখন ঘটে গেছে আরেকটি বর্বর ঘটনা। কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতোকোত্তর শেষ করা একটি মেয়েকে ঝিনাইদহে নিজের ঘরে ধর্ষণ করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। মেয়েটি বড় বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার জন্য তার দুলাভাই পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসলে, তিন্নি তাদের বাঁধা দেয়। বড়বোনের সাথে তার দুলাভাইয়ের ডিভোর্স হয়ে গেছে। ডিভোর্স না মেনে ছেলের পরিবারের এই হামলা। বড় বোনকে বাঁচাতে আসলে তিন্নিকে রেপ করে তার বোনের সদ্য ডিভোর্স স্বামী, স্বামীর দুইভাই, স্বামীর মামা এবং মামাতো ভাই। একবার চিন্তা করে দেখুন কী বর্বর অবস্থা আমাদের সমাজের, যেখানে তিনভাই, বাবা-ছেলে একসাথে একটি মেয়ের রেপ করেছে। রেপ করে তাকে বাথরুমের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার নাটক তৈরি করেছে। আমার সমাজের চিন্তাধারার অধঃপতনের শুরু এখন থেকে নয়। কোনো ছেলেকে শিক্ষা দিতে চাইলে তাকে কয়েকজন মিলে মেরে হাত-পা ভেঙে দেবে বা তাকে মেরে ফেলবে। আর একটি মেয়েকে প্রথমে রেপ করবে, তারপর মারবে।

কোনোটাই সঠিক নয়। কিন্তু মেয়েটার ক্ষেত্রে কেন রেপ করা হয়, কখনো চিন্তা করেছেন? কারণ আমরা বড় হয়েছি এসব জেনেই যে মেয়ের সম্মান তার শরীরে লুকিয়ে আছে। কতোগুলো মানুষের মতো দেখতে জন্তু মেয়ের শরীর দেখেছে, তাই মেয়ের সম্মান নষ্ট হয়েছে, এখন আত্মহত্যা করে সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হবে। যেখানে ফিজিক্যালি মার দিলেই একজন মানুষ যথেষ্ট অপমানিত হওয়ার কথা, সেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে কেন আলাদা হলো? আত্মসম্মানবোধ ছেলে-মেয়ে তথা মানুষের ক্ষেত্রে সমান হওয়ার কথা। আমাদের চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আনা উচিত। আরেকটা দুঃখজনক ব্যাপার শেয়ার করি। মিন্নির বিচারের রায়ে বা রায়ের আগে ছেলে-মেয়ে সবাই মিন্নির বিচার চেয়েছে। কাউকে দেখলাম না যে মিন্নির কাজের সাফাই গাইতে যে রিফাত মাইর দিয়েছে, রিফাত খারাপ ছিলো। কিন্তু যখনই কোনো মেয়ে রেইপ হয় বা অত্যাচারিত হয় তখন একদল কীট এসে মেয়েটির পোশাক-পরিচ্ছদ, স্বামীর কথা শুনতো না, মুখরা এসব হাজারটা পেছনের কারণ বের করে সেই অন্যায়ের সাফাই দিতে থাকে। তিন্নির ক্ষেত্রেও হয়তো তাই বলা হবে।

এই যে রেপ কেসের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে তার কারণ বিচারহীনতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, বিচারের প্রক্রিয়া মেয়েটির আবার অপমান সহ্য করা। কেন এক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় বিচারকাজটা দ্রুত করা যায় না। নারীর ক্ষমতায়নের সুফল আমরা কি আসলে ভোগ করছি নাকি মুখে মুখে শুধু বড়াই করে যাচ্ছি যে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার সবাই নারী। আসলে হাতে এসব নাড়ু নিয়ে, গালভরা বুলি আউড়ে আমরা মিথ্যা সম্মানে খুশি হয়ে আছি। যারা ওই বিশেষ পদগুলোতে আছেন, তারা এবার এই ব্যাপারটাতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা একটু দেখুন। সিলেটের এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কমিটির মিটিং করে ছাত্রাবাসের দারোয়ানদের বরখাস্ত করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। কী সুন্দর বিচার। যদিও অভিযুক্তরা সবাই ধরা পরেছে। পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি যে, কয়েকজন সেখানে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেন দরবার করেছিলেন, তবে দলের একজনের দৃঢ়তার কারণেই এই কেসটি পুলিশ নেয়। তাকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা আর দেনদরবারকারীদের জন্য ঘৃণা প্রকাশও মনে হচ্ছে কম হবে। অপরাধীর সহায়তাকারীও অপরাধী। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত