প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তৈরি পোশাক শিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি !

ডেস্ক রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল, মে এ তিন মাসে করোনার কবলে পড়ে লোকসান সামাল দিতে না পেরে ২৫-৩০টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে শিল্পনগরীটিতে তৈরি পোশাক শিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিল্প মালিকরা।

শিল্প মালিকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত প্রায় ৬৫৯টি শিল্প-কাখানার মধ্যে গুটিকয়েক কারখানা ছাড়া বাকি সব কারখানা চলেছে জোড়াতালি দিয়ে। অন্য বছরের তুলনায় ক্রয়াদেশ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। আবার যেসব ক্রেতা ক্রয়াদেশ দিচ্ছে, তার পেমেন্ট ১৯০ দিন পর পরিশোধ করা হবে এমন শর্তে কাজ দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় মালিকরা এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ও লোকসানের পরিমাণ কমাতে এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য ক্রেতাদের দেয়া শর্ত মেনেই উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন।

বিসিক শিল্পনগরী সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ সালে ৫৮ দশমিক ৫২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। প্রথমে এটি হোসিয়ারি পল্লী হিসেবে গড়ে উঠলেও কালের পরিক্রমায় এটি পরিপূর্ণ গার্মেন্টস পল্লী হিসেবে রূপ নেয়। বিসিকে টি-শার্ট, পলো শার্ট, নিট ফ্যাব্রিকস, গার্মেন্ট, নিটিং, ফিনিশিং, কালার, ডায়িংসহ বিভিন্ন কারখানা রয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প ইউনিট রয়েছে ৩০৮টি। শিল্প ইউনিটে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আর বিসিক থেকে সরকার প্রতি বছর ১ হাজার ৫৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বিকেএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ক্রেতা দেশগুলো তাদের বিজনেস কমিটমেন্ট রক্ষা করছে না। বাংলাদেশসহ বিশ্ব কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার আগে আমাদের নানা শর্ত দিয়ে কমপ্লায়েন্সসহ শ্রমিক নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেছে তারা। সরকারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে চাপ দিয়ে করিয়েছে। গার্মেন্টস মালিকসহ গার্মেন্টসংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো তাদের চাহিদা মোতাবেক কোম্পানিকে কমপ্লায়েন্স বা অবকাঠামো উন্নয়ন করতে গিয়ে প্রতিটি কারখানার মালিক ব্যাংক থেকে মোটা অংকের লোন নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্তু কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর সেসব বায়ার একের পর এক অর্ডার বাতিল করে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে আমাদের দেন-দরবারের কারণে যে পণ্যগুলো আমরা কভিডের আগে উৎপাদন করেছিলাম, সেসব পণ্য তারা নিয়েছে ১৯০ দিন পর পেমেন্ট পরিশোধ করবে এ শর্তে। অন্যদিকে এখন বাংলাদেশে যেসব বায়ার অর্ডার দিচ্ছেন, তা আগের দামের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ কম রেটে। আবার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন এসব অর্ডারের পেমেন্ট পরিশোধ করা হবে ১৯০ দিন পর। বায়ারদের ইচ্ছামাফিক আমরা বাধ্য হচ্ছি কারখানা চালু রাখতে।

ফতুল্লা বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ বিসিক থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৭ হাজার ৯৬২ কোটি ৬১ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হয়। তার মধ্যে রফতানি হয় ১৬ হাজার ৬৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার পণ্য। স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় ১ হাজার ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার পণ্য। সে হিসাবে গত তিন মাসে বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ২৫-৩০ ভাগ উৎপাদন কম হয়েছে।

সূত্র : বণিক বার্তা

সর্বাধিক পঠিত