প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জুলহাস আলম: সাংবাদিকতা করতে এসে ছোট ছোট আনন্দ আমাকে খুব তৃপ্তি দেয়

জুলহাস আলম: করোনাভাইরাসের সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁডাচ্ছে, গার্মেন্টস সেক্টর ভালো করছে, রেমিট্যান্স স্থিতিশীল আছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খুব ভালো অবস্থানে আছে, আমদানি ক্রমবর্ধমান, দেশের ৩৭ শতাংশ ভূমি দীর্ঘ সময় বন্যার পানিতে ডুবে থাকার পরও কৃষিখাত ভালো করছে। যার ফলশ্রুতিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম ও প্রণোদনা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেছে, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বছর শেষে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হবে। এমন প্রজেকশন খুব ভালো খবর। এসব নিয়ে সম্প্রতি একটা সংবাদ লিখেছিলাম, বরাবরের মতোই তা ওয়াশিংটন পোস্টসহ সারা বিশ্বের শত সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ইতিবাচক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে পারলে, আমাদের অপ্রতিরোধ্য জনগণের খবর তুলে ধরতে পারলে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি। চারদিকে নানা নেতিবাচক খবর, দুর্নীতির নানা অবিশ্বাস্য কাহিনী আমাদের যখন কষ্ট দেয়, তখন এমন ইতিবাচক খবর আমাকে আন্দোলিত করে।
যে কারণে প্রসংগটি তুললাম, সেটা হলো, গতকাল দুপুরে একটা ফোন এলো, কুয়েত থেকে। কুয়েতে বাংলাদেশী দূতাবাস থেকে। এক ভদ্রলোক পরিচয় দিয়ে বললেন তিনি কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের একজন। রাষ্ট্রদূত সাহেব আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি একটা মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় বললাম এক ঘন্টা পর কল করলে সুবিধা হয়। তিনি বললেন, কোন সমস্যা নেই। স্যারকে বলছি। পরে আবার তার ব্যস্ততা থাকায় তিনি সময় পরিবর্তন করলেন। রাতে ফোন করলেন আমাদের রাষ্ট্রদূত, বললেন আমি মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান বলছি, কুয়েতে বাংলাদেশের এম্বেসডর। উনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে জানি যে তিনি একজন মেজর জেনারেল এবং ক’মাস আগে নিয়োগ প্রাপ্তির আগে তিনি ডিফেন্স স্টাফ কলেজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। কুশলাদি বিনিময় শেষে বললেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আপনার একটা লেখা এখানকার প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজ এ ছাপা হয়েছে বেশ গুরুত্বসহকারে। ওটা দেখে আমার ও এখানে যারা বাংলাদেশীরা আছেন তাদের খুব ভালো লেগেছে। বললেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো নিউজ এখানে তেমন প্রকাশিত হয়না। সব খবর হলো নেতিবাচক। আমাদের এত শ্রমিক এখানে ও সারা মধ্যপ্রাচ্যজুডে, তারাইতো দেশের অর্থনীতির চাকা চলমান রেখেছেন। নেতিবাচক খবর দেখে এখানকার চাকুরিদাতারা আমাদের শ্রমিকদের অনেক সময় অবজ্ঞা করে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যেন বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয় সেই চেষ্টা আপনারা করবেন, সেই আশা রাখি। তাহলে আমরা একটু সাহস পাই, উৎসাহিত হই, দেশের জন্য কিছু করার জন্য অনুপ্রেরণা পাই।
তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনলাম, ওপাশে একজন দেশপ্রেমিক মানুষের অস্তিত্ব টের পেলাম, তার স্বরে যে আবেগ এসে ভর করেছে তা অনুমান করতে পারলাম। বললাম, যোগাযোগ থাকবে, ভালো কোন খবর থাকলে জানাবেন আমাদের, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করবো। ভালো একটা ফিলিং নিয়ে ঘুমাতে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খবর দেখলাম, সৌদি আরব বাংলাদেশী শ্রমিকদের ইকামা-র মেয়াদ বৃদ্ধি করতে রাজি হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি-র বরাত দিয়ে খবরটি এসেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি। সকালেও তাই মনটা ভালো হয়ে গেল।
শত সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা থাকার পরও প্রিয় বাংলাদেশ ভালো থাকুক, এগিয়ে যাক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত