প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইজিবাইকে তছনছ ঝিনাইদহের ট্রাফিক ব্যবস্থা, সড়ক মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদ

মাহফুজুর রহমান : [২] ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সড়ক মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। শহরে প্রতিদিনই দেখা দিচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনা।

[৩] সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইজিবাইক শহরের প্রধান প্রধান সড়ক দখল করে রাখছে। যেখানে-সেখানে ইচ্ছামতো থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। ফলে একদিকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক রাস্তায় নামছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২/১ মাসের মধ্যে শহর ও প্রধান প্রধান সড়কে চলাচল করা মুশকিল হয়ে যাবে।

[৪] শহরবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত ইজিবাইক ছাড়াও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভটভটি, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি, নছিমন-করিমন ও আলমসাধু অবৈধভাবে প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল করছে। শহরেও এ সব অবৈধ যান প্রবেশ করছে।

[৫] সরেজমিন দেখা গেছে, পুরানো ডিসি কোর্টের সামনে, থানার পাশে, জামে মসজিদের সামনে, পায়রা চত্বর, পোষ্ট অফিস মোড়, পাগলাকানাই মোড়, চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড, আরাপপুর, সিটি মোড়, পৌরসভার সামনে, কলেজ রোড, মুন্সি মার্কেট মোড়সহ শহরের একাধিক স্থানে গড়ে উঠেছে ইজিবাইকের পার্কিং। শহরের যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই যেন ইজিবাইকের ছড়াছড়ি। এসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অবাধে এসব গাড়ি চলাচল করায় শহর ও শহরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ইজিবাইক চালকরা রাস্তার উপর দাড়িয়ে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করছে। ব্যস্ততম রাস্তায় কোনো সিগন্যাল ছাড়া হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলেন। এতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে।

[৬] কলেজ ছাত্র হারুন অর রশিদ জানান, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে যার মতো যখন-তখন ক্রয় করে নতুন ইজিবাইক ও মিশুক রাস্তায় নামাচ্ছে। আগে ইজিবাইক চায়না থেকে আমদানি করা হতো। যশোর খুলনায় তৈরী হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার অটো গ্যারেজগুলোতে তৈরি হচ্ছে এসব যানবাহন। পথচারী নজরুল ইসলাম বলেন, ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল দেখে ভয় করে। এসব গাড়ির বেপরোয়া চলাচলের কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে চলছে।

[৭] এদিকে একাধিক চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এটা চালাতে কোনো ট্রেনিং লাগে না। যিনি রিকশা চালাতে পারেন, তিনি ইজিবাইক সহজেই চালাতে পারেন। এ ছাড়া ইজিবাইক চালাতে লাইসেন্স বা ট্যাক্স কিছুই প্রয়োজন হয় না। কিছু জায়গায় টাকা দিলেই তারা ভাল থাকে। এ কারণে ইজিবাইকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

[৮] এ প্রসঙ্গে ঝিনাইদহের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) সালাহউদ্দীন জানান, ইজিবাইকের কারণে যানজট নিরসন করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক ছড়িয়ে পড়েছে।

[৯] তিনি বলেন সাদা বা লাল রং করে ইজিবাইক একদিন পর পর চালানোর নির্দেশনা দিলে নতুন করে আর কেউ ইজিবাইক কিনতে উৎসাহ দেখাবে না। এতে সহজে যানজট কমে আসবে। ইজবাইক চালকরাও পরিবার বা সংসারের কাজ করতে পারবে।

[১০] তিনি বলেন ঝিনাইদহ জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ধোপে টেকেনি। যশোর বা বড় বড় শহরে বিভিন্ন রং করে একদিন পর পর চালানো হলে ঝিনাইদহে সম্ভব নয় কেন প্রশ্ন রাখেন ওই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত