প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে ডিপিডিসি’র ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রাস্তবায়নের টার্গেট ২০২৪

শাহীন চৌধুরী: বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে কাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্দিষ্ট সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আশাবাদী ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এই প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ৪০টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপনসহ হাতিরঝিল লেক এবং ধানমন্ডী আবাসিক এলাকার উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনগুলো মাটির নীচ দিয়ে নেয়া হবে। ২০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের টার্গেট ২০২৪ সাল। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে চীন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার কারণে চীনা ঠিকাদারদের একটি দল উহানে আটকা পড়ে। ফলে ডিপিডিসি’র পক্ষে নির্ধারিত সময়ে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুত লাইন নেয়ার পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভবপর হয়নি। এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প নির্মাণ কাজের আদেশ পাওয়া চীন সরকার মনোনিত ঠিকাদার তাবিয়ান ইলেক্ট্রিক অ্যাপারেটাস (টিবিইএ) কোম্পানি লিমিটেডের পুরো দলটি উহানে আটকা পড়ে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভিত্তিভূমি উহানে অবস্থিত। এই কারনে টিবিইএ’র কার্যালয় প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকে। সম্প্রতি তাদের অফিস খুলেছে এবং টিবিইএ-এর বেশীর ভাগ কর্মকর্তা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে পৌছেছে।

সূত্রমতে, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এখন ছয় মাস বিলম্বের ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেয়া যায় তার কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে ডিপিডিসি। কর্মকর্তারা আশা করছেন, কাজ শুরতে বিলম্ব হলেও টার্গেট অনুযায়িই আমরা কাজ শেষ করবো। প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ করা হবে। কারণ পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়নের উপরই ডিপিডিসি’র পরবর্তী প্রকল্পগুলো নির্ভর করছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে বিতরণ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীনের অর্থায়নে ২০ হাজার ৫শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য টিবিইএর সাথে ডিপিডিসি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ প্রকল্পের আওতায়, রাজধানীতে ৪০টি উপকেন্দ্র স্থাপন করবে তারা। এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হাতিরঝিল লেক ও ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন লাইনগুলো মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিপিডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধানমণ্ডির সাত-মসজিদ রোড, মিরপুর রোড, সিটি কলেজ রোড এবং গ্রীণ হেরাল্ড স্কুল এলাকার ১০৫ কিলোমিটার জুড়ে থাকা সকল ধরনের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার মাটির নিচ দিয়ে নেয়া হবে এবং ওইসব এলাকায় মাটির উপরে কোনো তার দেখা যাবে না। কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর পাইলট প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান, যন্ত্রপাতি এবং সিস্টেম ইতিপূর্বে দেশে নিয়ে আসা হয়। কাজ শুরু করে দেয়ার জন্য সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও করোনার কারণে শুরু করতে ছয় মাস বিলম্ব হয়।
এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসি’র প্রধান প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ার আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি উপকেন্দ্রের ধারণক্ষমতাও বাড়ানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৩২ কেভি স্তরের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন উপকেন্দ্রগুলো পাঁচ হাজার ৩৩০ এমভিএ এবং ৩৩ কেভির গুলো চার হাজার ৬৮০ এমভিএতে পৌঁছে যাবে। চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের কিছুটা পিছিয়ে দিলেও চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ইতিমধ্যেই এসে পৌছেছেন। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজও শুরু হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার ব্যাপারে আমরা অশাবাদী।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত