প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীমান্তে উত্তেজনার মাঝেও চিনের ব্যাঙ্ক থেকে মোটা টাকা ঋণ নিয়েছে ভারত!

ডেস্ক রিপোর্ট : একে করোনা মহামারি, দুইয়ে সীমান্ত সংঘর্ষ। জোড়া ফলায় বিদ্ধ ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। বুধবার সংসদে এক লিখিত বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারত-চীন বাণিজ্য ঘাটতি ৫৪৮ কোটি টাকা কমেছে।

অপরদিকে, দুই দেশের যেখানে যুদ্ধের আবহ, চীনা দ্রব্য বয়কটের ডাক উঠেছে, একের পর এক চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’-এর দাবি করছে সরকার, ঠিক তখনই চীনে অবস্থিত এশিয়ান ইনফ্রস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছে ভারত সরকার। বুধবার সংসদে এমনটাই জানান কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।

চীনের সঙ্গে ভারতের সংঘাত মেটার কোনো সম্ভাবনাই এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এদিনই বলেন, অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের বলে দাবি করেছে চীন। লাদাখ থেকে অরুণাচল-একের পর এক জায়গায় চীনের সাথে সীমান্ত সংঘাত বাঁধছে ভারতের। অথচ এই পরিস্থিতিতেও চীনা ব্যাংকের থেকে ঋণ! কিছুটা বেকায়দায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সংসদে জানান, ‘পরিকাঠামো খাতে উন্নয়নের জন্য চীনে অবস্থিত এশিয়ান ইনফ্রস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের সাথে মোট দুটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। ৩ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকার প্রথম চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় গত ৮ মে। সেই অর্থ করোনা মোকাবিলায় এবং চিকিৎসাখাতে ব্যয় করা হয়েছে।’

আর দ্বিতীয় ঋণ? কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর কথায়, দ্বিতীয় ঋণ চুক্তিটি সই করা হয়েছে ১৯ জুন। সেই চুক্তি প্রায় ৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকার। অর্থাৎ মন্ত্রীর ভাষ্যতেই স্পষ্ট দ্বিতীয় ঋণটির ভারত যখন আবেদন করে, ততদিনে লাদাখে চীনের আক্রমণে ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়ে গিয়েছেন। তারপরও চীনে অবস্থিত ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে সুর চড়াচ্ছে।

যদিও সরকারের দাবি, এশিয়ান ইনফ্রস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক মূলত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এশিয়া প্যাসিফিক এলাকায় বিভিন্ন দেশের আর্থিক এবং সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ঋণ দিয়ে থাকে এই ব্যাংক। ভারত নিজেও এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে, এশিয়ান ইনফ্রস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের সদর দফতর বেইজিংয়ে। আর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবেই চীনের হাতে।

অপরদিকে, গত বছর এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারত যত কোটি ডলার মূল্যের পণ্য চীনকে রফতানি করেছিল তার থেকে ২ হাজার ১৪২ কোটি ডলার বেশি মূল্যের চীনা পণ্য আমদানি করেছিল। এ বছর আমদানি-রফতানির ওই ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি মার্কিন ডলারে।

পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পাল্লায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে মোদি সরকার নিরন্তর চেষ্টা করছে — চীনে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি চীন থেকে আমদানি কমানো।’

মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে অন্য দেশ থেকে, যার মধ্যে চীনও রয়েছে, ৫৫০টি পণ্য ভারতে আমদানি করা নিষিদ্ধ।

সূত্র : এই সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত