প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বরিশালে কলেজ শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস, ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

বরিশাল প্রতিনিধি: [২] বরিশাল নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জমজম ইনস্টিটিউট’ রূপাতলী শাখার সাবেক এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে ভিডিওটি কে করেছে ধারণ করেছে বা কোন ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওচিত্র দেখা বোঝা যাচ্ছে- ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আয়লা গ্রামে।

[৩] ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জমজম ইনস্টিটিউট নগরীর রূপাতলী শাখার সাবেক এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানো হচ্ছে। ভিডিওতে অন্য কাউকে দেখা না গেলেও কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, কোনো ছাত্রীকে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব কখনও দেবেন না বলে শিক্ষককে শপথ করায় ওসব ব্যক্তি।

[৪] এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জমজম ইনস্টিটিউটের নগরীর রূপাতলী শাখায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেডিক্যাল টেকনোলজি কোর্সসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা কোর্স ইনস্টিটিউটে পড়ানো হয়। তিনি ম্যাটস বিভাগের শিক্ষক ছিলেন এবং ২০১৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দেন। তবে করোনাকালে মার্চ মাসে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ৮ থেকে ১০টি ক্লাস নিয়েছেন।

[৫] তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে মো. ইমন ও তার স্ত্রী (মনিরা) ছিল। তারা ক্লাস ফাঁকি ও লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বলা হলেও তারা কর্ণপাত না করে উল্টো পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে নানা সময় তাদের বহিরাগত বন্ধুদের দিয়ে চাপ দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি ইমন আমাকে কখনও সালাম দিতো না। এ নিয়ে ইনস্টিটিউটের কয়েকজন ছাত্র ইমনকে ভর্ৎসনা করলেও সালাম না দেওয়া নিয়ে আমার মাথাব্যথা ছিল না। তারপরও ইমন আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এসব কারণে ২৬ আগস্ট হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ইমন ও তার ৬ থেকে ৭ জন বন্ধু আমার পথরোধ করে।

[৬] এরপর তারা আমার মুঠোফোন ও মোটরসাকেলের চাবি নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আমাকে তারা জোর করে অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর আমাকে সেখান থেকে গোরস্থান রোডে নিয়ে মারধর করে। ওই সময় ইমনের সঙ্গে ৬ থেকে ৭ জন যুবকের একজনের হাতে লাঠি ছিল। তাদের কিল-ঘুষিতে আমার নাক ফেটে যায়সহ ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কি করব বা তাদের হাত থেকে কীভাবে রক্ষা পাব কিছুই মাথায় আসছিল না তখন।

[৭] মারধরের একপর্যায়ে ইমন আমাকে কান ধরে ওঠ-বস করানোসহ কিছু কথা বলতে বাধ্য করে। সেগুলো একজন মুঠোফোনে ধারণ করে। তারা যেভাবে যা বলতে বলেছে, আমিও তাদের হাত থেকে বাঁচতে তাই বলেছি। বিষয়টি অনেক যন্ত্রণাদায়ক ছিল, ছাত্রের হাতে এভাবে মারধরের শিকার হতে হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি আমার দুর্ভাগ্য। যে অবস্থার মধ্য থেকে আমাকে যেতে হয়েছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত