প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]‘বেইজলাইন সার্ভে ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই না হওয়ায় বছরভিত্তিক কাঙ্খিত বনায়ন অর্জন হয়নি’

এস.ইসলাম : [২] জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদাপন্ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃত। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকা প্রায় সামদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের শিকার হচ্ছে। যার ফলে ভূমিক্ষয় এবং মানুষের জীবন ও সম্পদহানি ঘটেছে। এমনকি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয় এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধিও কারণে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবনে ঝুঁকির প্রবনতা বাড়ছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি রোধ করার জন্য উপকূলীয় চরাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশালের ৯টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলায় ‘বঙ্গোসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ সাল মেয়াদে বাস্তবায়ন শুরু করে বন অধিদপ্তর।

[৩] এ প্রকল্পটির ওপর নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। আইএমইডি প্রতিবেদনটি বন অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেইজলাইন সার্ভে ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই ছাড়া ডিপিপি অনুমোদন হওয়ায় প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা এবং প্রকল্প গ্রহণকালীন সময়ে চরের প্রকৃত অবস্থা কেমন ছিল তা পাওয়া যায়নি। একইভাবে গত তিন অর্থবছরে ম্যানগ্রোভ বনায়নের জন্য উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন উপযোগী চর পাওয়া যায়নি। ফলে ডিপিপি অনুযায়ি বছর ভিত্তিক কাঙ্খিত বনায়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

[৪] প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন অর্থবছরে কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব, স্ট্রিপ বনায়নে ভূমির মালিকদের সাথে চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা, ম্যানগ্রোভ বনায়ন উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন উপযোগী চর না পাওয়া, মাঠ পর্যায়ের চাহিদা যাচাই না করে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কারণে ডিপিপি অনুযায়ি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে রয়েছে। ডিপিপি বহির্ভূতভাবে ফেনী জেলার পরশুরাম ও সোনাগাজী উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কে বাগান সৃজন এবং নতুনভাবে প্রকল্প এলাকা পুণঃনির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডিপিপির কর্মপরিকল্পনার ব্যত্যয়।

[৫] প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থছাড় হয়েছে ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা ডিপিপির সংস্থানের চেয়ে ৩২ কোটি ২২ লাখ টাকা কম। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ডিপিপির লক্ষ্য অনুযায়ি প্রকল্পের প্রধান প্রধান কর্মকান্ডের বাস্তবায়ন ২৮ থেকে ৪৫ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।

[৬] প্রতিবেদনে প্রকল্পের ১৭টি দুর্বল দিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, প্রকল্প গ্রহণের শুরুতে বেইজলাইন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না থাকা, অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, ডিপিপি অনুযায়ী বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া, মাঠ পর্যায়ের চাহিদা যাচাই না করে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী বছর ভিত্তিক অর্থ ছাড় না হওয়া, ম্যানগ্রোভ বনায়নে উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন উপযোগী চর না পাওয়া, বেশিরভাগ চরে একই প্রজাতির (কেওড়া) ম্যানগ্রোভ চারা লাগানো, স্ট্রিপ বনায়নে ভূমির মালিকদের সাথে চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতায় লক্ষমাত্রা অর্জন না করা, বসতবাড়িতে চারা বিতরণে সঠিক বসতবাড়ি নির্বাচন না করা, বসতবাড়িতে বিতরণ ও উপকারভোগী কর্তৃক সৃজিত গাছের পরিবীক্ষণ না করা, ডিপিপি বহির্ভূত প্রকল্প এলাকায় বনায়ন করা, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ক্রয় পরিকল্পনার কোন কার্যক্রমই সমাপ্ত না করা, প্রতি অর্থবছরে প্রকল্পের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া, বন অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়মিত পরিবীক্ষণ না করা, আইএমইডি কর্তৃক মনিটরিং রিপোর্ট এর সুপারিশ বাস্তবায়ন না করা, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পিএসসি ও পিআইসি সভা না করা।

[৭] প্রকল্পের ঝুঁকিগুলো হচ্ছে, বসতবাড়ি বনায়নে কেবল চারা বিতরণের পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা ও কোন পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা না থাকাতে ও অঙ্গটি হতে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন বাঁধাগ্রস্ত হবে, উপকূলীয় চরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিশ্র বনায়ন না করে একক বনায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা বনাঞ্চল তৈরি ও জীববৈচিত্রকে নিরুৎসাহিত করে, পলিথিনযুক্ত চারা রোপণ না করার কারণে চারার মৃত্যুহার বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ম্যানগ্রোভ বনায়নের ক্ষয়-ক্ষতি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত