প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ টাকায় বিলাসী নৌ-ভ্রমণ

ডেস্ক রিপোর্ট : মাত্র ২০ টাকায় রাজধানীতে জমে উঠেছে নৌ-ভ্রমণ। ইট-পাথরের এ মহানগরের উপকণ্ঠের বালু নদে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে এমন বিলাসী নৌ-ভ্রমণ। বাহারি আকৃতির এসব নৌকায় যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকাদের কদর বেশি। ভ্রমণে আগতরা বলছেন, মাথার ওপরে বিস্তৃত সুনীল আকাশ। বিক্ষিপ্ত মেঘ বালিকার ক্ষণে ক্ষণে লুকোচুরি। নদীপাড়ে বিশাল কাশবন। সর্পিল আকৃতিতে বহমান নদের জলরাশিতে পশ্চিমে ডুবতে বসা সূর্যের রক্তিম অবয়ব-এমন অপার প্রকৃতির নিসর্গ দেখা যায় এ নদে। শহরায়ণের প্রভাবে সরু হয়ে এলেও চলমান বর্ষায়ও স্পষ্ট বোঝা যায় বালু নদের যৌবনের ঝলক। মাত্র ২০ টাকায় বালু নদের এ স্বর্গীয় প্রকৃতি উপভোগ করছেন প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিয়াসু মানুষ। করোনার এ সময়েও নৌ-ভ্রমণে থেমে নেই আনন্দযাত্রা। প্রথম দেখায় যে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবেন না। নির্বাক হতে পারেন কেউ কেউ। বালু নদে নৌ-ভ্রমণে কী বেকার, কী ব্যস্ততা, সব কিছু ছাপিয়ে চলছে এ বিলাসিতার ভ্রমণ।

আগত সবার কাছে ভ্রমণ বাড়তি আনন্দের। রাজধানী ঢাকার ছকবাঁধা জীবন আর গৎবাঁধা নিয়মের ভিড়ে কোথাও ঘুরে আসার মতো সময় ও জায়গা পাওয়া ভার। অল্প সময়ে পূর্ণ ভ্রমণ। বিশেষত নৌ-ভ্রমণে যাদের আগ্রহ তারা চাইলে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক সময় হাতে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন রাজধানীর অন্যতম নৌ-পর্যটন স্পট বালু নদে। বালু নদ রাজধানী ঢাকা ঘিরে থাকা পাঁচটি নদ-নদীর অন্যতম। গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছুঁয়ে বহমান বালু ৪৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পতিত হয়েছে শীতলক্ষ্যায়। অনিন্দ্যসুন্দর বালুতে নৌ-ভ্রমণের জন্য মাত্র ঘণ্টা দুয়েক সময় হলেই সদলবলে বেরিয়ে পড়তে পারেন। রাজধানীর যে কোনো স্থান থেকে যাওয়া যায়। চাইলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়ক হয়ে বা খিলক্ষেত থেকেও বালু নদের ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব। ৩০০ ফুট সড়কের চেকপোস্ট বা খিলক্ষেত থেকে অটোরিকশা জনপ্রতি ৩০ টাকা হিসেবে সরাসরি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার ইছাপুরা ঘাটে আসে। বেরাইদ ঘাট থেকে ইছাপুরা বা ইছাপুরা ঘাট থেকে বেরাইদের উদ্দেশে প্রতি ৫-১০ মিনিট বিরতিতে ছেড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। মাঝারি আকৃতির ট্রলারে অনায়াসে জনা চল্লিশেক মানুষের ব্যবস্থা থাকলেও যাত্রী তোলা হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলাচল করে এসব ট্রলার। চাইলে ঘণ্টা হিসেবেও ভাড়া নেওয়া যায় ট্রলার। সেক্ষেত্রে ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে। তবে রিজার্ভ করা হলে ভ্রমণের নির্দিষ্ট কোনো রুট নেই। সেই সঙ্গে উভয় ঘাটেই রয়েছে ছোট ডিঙি নৌকা। এগুলোতে দরদাম সাপেক্ষে ভ্রমণের সুযোগ আছে।

ইছাপুরা-বেরাইদ রুটে ভ্রমণে সময় লাগে মিনিট বিশেক। সাধারণত বিকালের দিকে নৌ-ভ্রমণে আসা মানুষের ভিড় বাড়ে। তবে সকালে এলে ভ্রমণের সঙ্গে বেরাইদ ঘাটের বিশাল মাছ বাজারে পাইকারি ও টাটকা মাছের দেখা মিলবে। ওপারে ইছাপুরা ঘাটসংলগ্ন বাজারে রয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরি হরেক মিষ্টির সম্ভার। কম দামে পাওয়া যায় সুস্বাদু মিষ্টি। রয়েছে গ্রামের তরতাজা সবজি ও ফলের পসরা। একটু দূরে ৩০০ ফুট ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভোলানাথ বাজারে রয়েছে চটপটি-ফুচকা বা ফাস্টফুডের দোকানসহ হোটেল এবং ফলের বাজার। এখানে বিকালে রাজধানী থেকে ঘুরতে আসেন অসংখ্য মানুষ। বালু নদের বুকে নৌকা চালিয়ে তিন দশক পার করে দিয়েছেন বৃদ্ধ হোসেন আলী মাঝি। আগে মালামাল ও যাত্রী টানার কাজ করলেও এখন মূলত পর্যটক নিয়ে বালুর বুক চষে বেড়ান হোসেন আলী। জানান, দিনে ১০-১২টি ট্রিপ মারেন। ঘাটে তার মতো মাঝির সংখ্যা শ-খানেক।বিডি প্রতিদিন

সর্বাধিক পঠিত