শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা ◈ গণপিটুনিতে ৯ মাসে ১৭১ মৃত্যু, ‘মব’ কি সংঘবদ্ধ অপরাধের নতুন কৌশল?

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৮:১৩ সকাল
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৮:১৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমার ওপর মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে, বিবিসিকে রায়হান কবির

ডেস্ক রিপোর্ট : মালয়েশিয়ায় পুলিশের কাছে আটক থাকাকালীন জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরকে 'মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ' করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি বলছেন। শনিবার মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর রায়হান কবির জানান, পুলিশের হাতে আটক থাকার সময় বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

তিনি বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদের সময় কৌশলে আমার ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়েছে যেন আমি আমার বিবৃতি পরিবর্তন করি। কিন্তু আমি আমার বক্তব্য পরিবর্তন করিনি।"

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার অপরাধে ২৪শে জুলাই রায়হান কবিরকে আটক করে মালয়েশিয়ার পুলিশ। তিন সপ্তাহের বেশি সময় পুলিশের হেফাজতে থাকার পর শনিবার (২২শে অগাস্ট) রায়হান কবিরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ হেফাজতে যেমন ছিলেন রায়হান কবির

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময় প্রথম ১৪ দিন একাধিক সংস্থার সদস্যরা রায়হান কবিরকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতো বলে জানান তিনি।

"আমার কোনো ধরণের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, আল জাজিরার সাথে আমার যোগাযোগ কীভাবে হল, সরকারের সমালোচনা করার জন্য আমাকে টাকা দেয়া হয়েছে কিনা, আমার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার ইন্ধন আছে কিনা - এই ধরণের প্রশ্ন করা হতো আমাকে।"

"আমার মনে হয়েছে, তারা চাচ্ছিল আমি যেন বিবৃতি দেই যে কারো মাধ্যম হয়ে আমি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।"

তবে রায়হান কবির বলেন যে তিনি তার নিজের বক্তব্য কখনোই পরিবর্তন করেননি।

"আমি সেখানকার শ্রমিকদের দূর্ভোগ নিয়ে নিজে থেকেই কথা বলেছি আল জাজিরার সাথে। আমি তাদের বারবার বলেছি যে আমি মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অনিয়মগুলো সম্পর্কে বলেছি।"

পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় তার সাথে দুর্ব্যবহার করা না হলেও তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে একা আটকে রাখা হতো বলে জানান রায়হান কবির।

আটক থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা কয়েকবার তার সাথে দেখা করেন বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরা গত ৩রা জুলাই 'লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন' নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

প্রায় ২৬ মিনিটের ঐ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

রায়হান কবির ঐ তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন।

ঐ ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দু'হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

ঐ ভিডিওটি প্রচারের পর থেকেই মালয় সোশাল মিডিয়াতে মি. কবিরের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

এর জেরে কর্তৃপক্ষ তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

শনিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরার পর সাদা পোশাকে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার বিবৃতি নেন বলে জানান রায়হান কবির। তবে সে সময় তাকে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলার বিষয়ে কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।

মালয়েশিয়ায় রায়হান কবিরের গ্রেফতারের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রায়হানকে আটকের কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

 

  • সর্বশেষ