শিরোনাম
◈ রাষ্ট্রপতির পদটিকে ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ দুর্বৃত্তের গুলিতে মিরপুরে যুবদল কর্মী নিহত, পথচারী গুলিবিদ্ধ ◈ মতিঝিলে নিষ্ক্রিয় করা বোমা ছিল আইআইডি: ডিএমপি ◈ ‘মেয়েটি গাজী নজরুলের সেবা করতে চেয়েছিল’, জামায়াতের আরেক এমপি (ভিডিও) ◈ স্বাধীনতার পর ১৮ রাষ্ট্রপতির মধ্যে মাত্র ৮ জন শেষ করেছেন পূর্ণ মেয়াদ ◈ রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পর কী কী সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন? ◈ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে: ইসি মাছউদ ◈ ভারতীয় নাগরিকদের ভিসামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার, নতুন নিয়ম ৪ দেশে ◈ প্রথমবারের মতো দেশেই নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ◈ মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে মিলল বোমা

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৮:১৩ সকাল
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ০৮:১৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমার ওপর মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে, বিবিসিকে রায়হান কবির

ডেস্ক রিপোর্ট : মালয়েশিয়ায় পুলিশের কাছে আটক থাকাকালীন জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরকে 'মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ' করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি বলছেন। শনিবার মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর রায়হান কবির জানান, পুলিশের হাতে আটক থাকার সময় বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

তিনি বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদের সময় কৌশলে আমার ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়েছে যেন আমি আমার বিবৃতি পরিবর্তন করি। কিন্তু আমি আমার বক্তব্য পরিবর্তন করিনি।"

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার অপরাধে ২৪শে জুলাই রায়হান কবিরকে আটক করে মালয়েশিয়ার পুলিশ। তিন সপ্তাহের বেশি সময় পুলিশের হেফাজতে থাকার পর শনিবার (২২শে অগাস্ট) রায়হান কবিরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ হেফাজতে যেমন ছিলেন রায়হান কবির

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময় প্রথম ১৪ দিন একাধিক সংস্থার সদস্যরা রায়হান কবিরকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতো বলে জানান তিনি।

"আমার কোনো ধরণের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, আল জাজিরার সাথে আমার যোগাযোগ কীভাবে হল, সরকারের সমালোচনা করার জন্য আমাকে টাকা দেয়া হয়েছে কিনা, আমার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার ইন্ধন আছে কিনা - এই ধরণের প্রশ্ন করা হতো আমাকে।"

"আমার মনে হয়েছে, তারা চাচ্ছিল আমি যেন বিবৃতি দেই যে কারো মাধ্যম হয়ে আমি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।"

তবে রায়হান কবির বলেন যে তিনি তার নিজের বক্তব্য কখনোই পরিবর্তন করেননি।

"আমি সেখানকার শ্রমিকদের দূর্ভোগ নিয়ে নিজে থেকেই কথা বলেছি আল জাজিরার সাথে। আমি তাদের বারবার বলেছি যে আমি মালয়েশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অনিয়মগুলো সম্পর্কে বলেছি।"

পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় তার সাথে দুর্ব্যবহার করা না হলেও তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে একা আটকে রাখা হতো বলে জানান রায়হান কবির।

আটক থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা কয়েকবার তার সাথে দেখা করেন বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরা গত ৩রা জুলাই 'লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন' নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

প্রায় ২৬ মিনিটের ঐ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

রায়হান কবির ঐ তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন।

ঐ ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দু'হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

ঐ ভিডিওটি প্রচারের পর থেকেই মালয় সোশাল মিডিয়াতে মি. কবিরের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

এর জেরে কর্তৃপক্ষ তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

শনিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরার পর সাদা পোশাকে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার বিবৃতি নেন বলে জানান রায়হান কবির। তবে সে সময় তাকে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলার বিষয়ে কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।

মালয়েশিয়ায় রায়হান কবিরের গ্রেফতারের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রায়হানকে আটকের কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়