প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সালমানকে খুনের ছক, গ্রেফতার শার্প শ্যুটারের স্বীকারোক্তি

রাশিদ রিয়াজ : [২] কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা বিতর্কের পর থেকেই ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সালমান খান বিষ্ণোই উপজাতির বিষ নজরে আছেন। পুলিশের কাছে এমন খবর ছিল যে, সালমানকে হত্যার চেষ্টাও করা হতে পারে। সেই কারণে বিষ্ণোই গোষ্ঠীর গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের উপরে নজর ছিল পুলিশের। টাইমস অব ইন্ডিয়া

[৩] অনেকদিন ধরেই খুনের পরিকল্পনা করছিল রাহুল নামে এক শার্প শ্যুটার। জানতে পেরে পুলিশও তাকে খুঁজছিল। গত ১৫ আগস্ট ফরিদাবাদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় রাহুল। এরপরেই সে পুলিশের জেরায় স্বীকার করে পরিকল্পনার কথা। রাহুল পুলিশকে এটাও জানায় যে, বিষ্ণোই গোষ্ঠীর গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই সালমানকে খুনের জন্য তাকে নিয়োগ করেছে। গত জানুয়ারিতেই মুম্বাই এসে সালমানকে খুনের ছক পাকা করে যায় রাহুল ওরফে সংঘ ওরফে বাবা ওরফে সুন্নি। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে কাজ করে ২৭ বছরের এই শার্প শ্যুটার। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতির কারণে পরিকল্পনা বাতিল হয়।

[৪] ফরিদাবাদ পুলিশের ডিসিপি রাজেশ দুগ্গল জানিয়েছেন, রাহুল গত জানুয়ারি মাসে মুম্বাইতে এসে সালমানকে খুনের জন্য রেকি করে যায়। ভিওয়ানির বাসিন্দা রাহুলকে গত ১৫ আগস্ট উত্তরাখণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৪ জুন ফরিদাবাদের বাসিন্দা প্রবীন নামে এক রেশন ডিপো মালিককে খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

[৫] রাহুলই প্রথম নয়, এর আগে সালমানকে হত্যার ছক কষে রেকি চালায় আর এক দুষ্কৃতিকারী সম্পত নেহরা। সেও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সদস্য। তাকে ২০১৮ সালের জুনে গ্রেফতার করা হয়। বিষ্ণোইয়ের নির্দেশে সালমান খানকে খুনের পরিকল্পনার অভিযোগেই নেহরা গ্রেফতার হয় হায়দরাবাদ থেকে। নেহরা ছিল বিষ্ণোইয়ের ডান হাত তবে সদ্য ধৃত রাহুল এই গ্যাংয়ের নতুন সদস্য বলে দাবি পুলিশের।

[৬] ১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময়ে রাজস্থানের যোধপুরে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করার অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। সেই থেকেই বিষ্ণোই উপজাতির কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্সের কু-নজরে পড়েন সালমান খান। বিষ্ণোই উপজাতির মানুষেরা বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করে আর তার জন্যই সালমান এদের কাছে শত্রু। লরেন্স এখন রয়েছে যোধপুরের জেলে।

[৭] রাহুলকে গ্রেফতারের পরে জানা গিয়েছে, শুধু সালমান খানকে খুনের ছক কষাই নয়, অনেক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ হেফাজত থেকে দু’জন আসামীকে পালাতে সাহায্য করার ছকও ছিল তার। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নির্দেশে গত ছ’মাসে চারটি খুন করেছে সে। এছাড়াও গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে রাহুলের বিরুদ্ধে। বেআইনি অস্ত্র রাখার অপরাধে জেলও খাটে রাহুল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ২০১৯ সালে লরেন্সের গ্যাংয়ে যোগ দেয়। এখন তার মূল লক্ষ্য ছিল সালমান খানকে খুন করা। কিন্তু সেই অপকর্মের আগেই সম্পত নেহরার মতো সেও পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত