শিরোনাম
◈ চীন-ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেশি স্থিতিশীল, সামনে বড় সুযোগ ◈ শ্রমিকদের বিরোধিতার মধ্যেই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের এনসিটি ইজারা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নগ্ন সোনালি ট্রাম্পের ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ ◈ চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার এড়ালেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা, পুলিশের অভিযান ব্যর্থ ◈ ৭৫ কোটি টাকায় বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক, হবে ‘নজরুল সরোবর’ ◈ ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনীতি, বছরে আসে ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ◈ তালাকের আগেই দেনমোহর চাইতে পারবেন স্ত্রী: হাইকোর্ট ◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২০, ০৮:৪৭ সকাল
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২০, ০৮:৪৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যেভাবে ঈদ কেটেছে নুসরাতের পরিবারের

ডেস্ক রিপোর্ট : অন্যায়ের প্রতিবাদ করে হত্যাকারীর আগুনে ঝলসে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নুসরাতকে হারিয়ে ভালো নেই তার পরিবার। একমাত্র নুসরাত জাহান রাফিকে ছাড়া ঈদ করতে গিয়ে শোকে বিহ্বল নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও বাবা এ কে এম মুসা। বোন হারানোর বেদনায় কাতর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমাদের জীবনে আর কোনোদিন ঈদ আসবে না। নুসরাতের কথা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। ঈদের দিন নুসরাতকে আরো বেশি মনে পড়ছে। কোনোভাবেই তাদের কান্না আমি থামাতে পারছি না। আসলে আমাদের বুকের ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমাদের বুকটা আগুনে পুড়ছে। কী অসহ্য কষ্ট, বোঝাতে পারবো না। যে বোন ছিল আমাদের আশার বাতি, সেই বোনকে নিজের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারা গেলো।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, দুই ছেলে ও নুসরাতের বাবা সারারাত ঘুমাননি। মেয়ে ও বোনের জন্য শোকে তারা কাতর। বাবা কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। আর কিছুক্ষণ পরপর মা মা বলে নুসরাত নুসরাত বলে ডাকছেন।

নুসরাতের বাবা একেএম মুসা বলেন, আমাদের ঈদ আনন্দ নেই। সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে। নুসরাতের শূন্যতা আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জানি না সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠবো।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

পরে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসঙ্গে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দ্রুত বিচার শেষে আদালত ১৬ আসামীর ফাঁসির রায় দেন।

সূত্র- ডেইলি বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ