প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: বিদেশে যাওয়ার জন্য কাউকে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ দেওয়ার বিপক্ষে আমি

শরিফুল হাসান: কেনো, তা ব্যাখ্যা করছি। তার আগে বলে নিই, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিদেশযাত্রায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ২৩ জুলাই থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। সরকার নিশ্চয়ই ভালোর জন্য করেছে। কিন্তু এটা আবার বিপদ ডেকে না আনে। আপনারা হয়তো শুনেছেন, বিদেশ যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদপ্রাপ্তির জন্য ল্যাবে গিয়ে নমুনা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে ৪ হাজার ৫০০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ১৬টি সরকারি হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। না খরচটা বেশি বলে আমি এর বিরোধী নই। আমি বিরোধী অন্য কারণে। দেখেন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রার ৭২ ঘণ্টার আগে কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হবে না। যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমার আপত্তিটা এখানেই। ব্যাখ্যা করি। ধরুন আপনি ২৭ জুলাই রাতে বিদেশে যাবেন।

৭২ ঘণ্টা আগে ধরলে ২৪ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করতে দিলেন। পরীক্ষা করতে দিয়ে বাড়িতে এসে আপনি কিন্তু আপনার স্বজন পরিবার বা কমিউনিটিতে থাকবেন। সরকার বলেছে আইসোলেশনে থাকতে হবে। এই আইসোলেশনটা নিশ্চিত করবে কে? আমাদের দেশে যেটা হয়, একজন বিদেশে চলে যাবেন শুনলে তার সব আত্মীয়-স্বজনরা বিদায় দিতে আসবেন। এটা কী করে ঠেকাবেন? এই যে নমুনা দিয়ে এসে তিনদিনে আপনি বাড়িতে থাকবেন তাতে আপনি করোনায় আক্রান্ত হবেন না সেটা কী কেউ নিশ্চিত করতে পারবে?

ধরেন আপনি ২৭ জুলাই যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে ২৬ জুলাই রিপোর্ট পেলেন। আপনি তো নেগেটিভ সনদ ধরে যাচ্ছেন। এখন এই তিনদিনে যে অনেকের সঙ্গে দেখা হলো যদি আপনি করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে কী হবে? এবার বোঝেন, আপনি ২৭ জুলাই রাতে রওয়ানা দিলে ২৯ জুলাই ভোরে ইতালি পৌঁছালেন। তার মানে আপনি করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন ৫ দিন আগে। এই পাঁচদিনে দেশে বা বিমানবন্দরে বা যেকোনো জায়গা থেকে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন আপনি। এখন আপনি যখন ইতালির বিমানবন্দরে নামবেন তখন যদি আপনার করোনা পাওয়া যায় তখন কী হবে? আপনি তো নেগেটিভ সনদ দেখাবেন কিন্তু ওরা বলবে, বাংলাদেশ ভুয়া সনদ দিচ্ছে। তাতে কী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে?

এখন কথা হলো সমাধান কী? আমি আগেই বলেছি আমি কাউকে নেগেটিভ সনদ দেওয়ার বিপক্ষে। কারণ সকালে যে করেনা নেগেটিভ বিকেলেই সে পজেটিভ হতে পারে। সরকার এটা করতে পারে যে কেউ ফ্লাইট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে নমুনা দেবে। ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সেই ফল তার কাছে যাবে। নেগেটিভ হলে তিনি বিদেশের পথে রওয়ানা দিতে পারবেন। বোর্ডিং দেওয়ার আগে অনলাইনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তার পাসেপার্ট মিলিয়ে নেগেটিভ কিনা চেক করবে। তবে এই সনদে বসে থাকলেই চলবে না। আরেকটা কথা। পিসিআর পরীক্ষাতেও কমবেশি ৩০ শতাংশ ভুল ফল আসে। কাজেই শুধু সনদ দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয় বিমান উড্ডয়নে আগে যদি চূড়ান্ত পরীক্ষা করা যায়। আমার কাছে মনে হয় সেটি অসম্ভব নয়। বিমানবন্দরে প্রবেশর শুরুতেই বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার, তাপমাত্রা মাপাসহ আধুনিকভাবে পরীক্ষা করা হবে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় তার করোনা আছে কিনা।

নেগেটিভ হলেই কেবল তিনি ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। কিন্তু তাকে কোথাও নেগেটিভ সনদ দেওয়া হবে না। কারণ করোনার নেগেটিভ সনদ দেওয়া যায় না। এবার আমার আরেকটা প্রশ্ন আছে। আচ্ছা এই যে সবাইকে নেগেটিভ সনদ দিয়ে আমরা বিদেশ যেতে বলছি, সেটা কেন? কোন দেশ কী চেয়েছে সেই সনদ? আমার জানা নেই। কোনো দেশ যদি বলে থাকে নেগেটিভ সনদ লাগবেই, সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, তবে এরপরেও যদি সরকার নেগেটিভ সনদ দিতে চায় তাহলে অবশ্যই সনদে বলতে হবে, ২৬ জুলাই ভ্রমণের আগে তার করোনা পাওয়া যায়নি। এই সনদ পরের অবস্থার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। আরেকটা কথা, নেগেটিভ সনদ যারই থাকুক বিমানবন্দরে যেন সবাইকে শেষ মুহূর্তে চেক করা হয়। নেগেটিভ সনদ নিয়ে কেউ যেন চলে যেতে না পারে। উড্ডয়নের আগে হলেও বিমানবন্দরে চেক করাটা জরুরি। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এটা খুব জরুরি। আরেকটা কথা, বাংলাদেশের মতো দেশে একজন যাত্রীর জন্য সাড়ে তিন বা সাড়ে চার হাজার টাকায় করোনা পরীক্ষা করতে দেওয়াটা আসলেই চাপ।

কারণ বাংলাদেশ থেকে মূলত যে শ্রমিকেরা দেশের বাইরে যায় এই কাজ করতে হলে তাকে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত এই টাকা দিতে হবে। অধিকাংশ সময় তিনি যেহেতু এই কাজগুলো বোঝেন না হয়তো তিনি দালাল বা এজেন্সি ধরবেন। তাতে তার খরচ হবে ৫ থেকে দশ হাজার টাকা। আমার মনে হয় সরকার বিমাবন্দরের কাছাকাছি কোথাও একটা বুথ করতে পারে। সেখানে পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকেট দেখে যারা প্রবাসী কর্মী তাদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করতে পারে। ১৬টি জায়গায় যেখানে পরীক্ষা করা হবে সব জায়গায় বলা যায় যে কারও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মার্ট কার্ড থাকলে ৫০০ টাকাতেই টেষ্ট করা যাবে। তাতে তাদের ওপর আর জুলুম হবে না। আমি জানি না কারও মাথায় এর চেয়েও ভালো কোন ভাবনা আছে কিনা। থাকলে বলতে পারেন। আমি শুধু চাই আমার লাল সুবজ পাসপোর্ট, আমার বাংলাদেশটা কোথাও যেন অপমানিত না হয়। এই করোনাকালে পৃথিবীতে আমার যেভাবে ছোট হচ্ছি, যেন সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত